রাজশাহীতে ঈদ সালামি দেয়ার কথা বলে আনিকা খাতুন (৮) নামে এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।
সোমবার (৩ জুলাই) সকালে নগরীর ছোটবনগ্রাম খোরশেদের মোড় এলাকার একটি পুকুর থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শিশু আনিকা নগরীর রোড নওদাপাড়া এলাকার আজিম উদ্দিনের মেয়ে। আর তাকে হত্যা ও ধর্ষণে অভিযুক্ত যুবক পলাশ (২৫) নগরীর বড়বনগ্রাম ভাড়ালিপাড়া মহল্লার শাহিনের ছেলে। ওই এলাকার একটি খাবারের হোটেলের কর্মচারী সে।
গত শনিবার (১ জুন) সন্ধ্যার দিকে আনিকাকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে পলাশ। এরপর হত্যা করে মরদেহ পুকুরে ফেলে নাটোর পালিয়ে যায়। সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নাটোরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ পলাশকে গ্রেফতার করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তার দেখানো স্থান খোরশেদের মোড় এলাকার পুকুরটি থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রাজশাহী নগর পুলিশের শাহমখদুম জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার নুর আলম সিদ্দিকী জানান, গত শনিবার সন্ধ্যার দিকে ঈদ সালামি দেয়ার নাম করে আনিকাকে ফুসলিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে পলাশ। বিষয়টি যেন কেউ জানতে না পারে সেজন্য তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। এরপর রাতে সুযোগ বুঝে মরদেহ পুকুরে ফেলে রাজশাহী থেকে নাটোরে পালিয়ে যায় সে।
এদিকে আনিকার খোঁজ না পেয়ে স্বজনেরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এলাকার একটি ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজ চেক করে স্বজনেরা দেখতে পান, পলাশ ওই শিশুকে ডেকে নিয়ে যাচ্ছে। এই সূত্র ধরে রবিবার বিকেলে আনিকার বাবা আজিম উদ্দিন পলাশের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়েই পলাশের খোঁজে পুলিশের পাঁচটি টিম সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহায়তায় গত রোববার রাতভর অভিযান চালায়। পরে সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নাটোর জেলা থেকে পলাশকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
উপ-পুলিশ কমিশনার নুর আলম সিদ্দিকী আরো জানান, পলাশকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার বর্ণনা দিলে সে মোতাবেক আনিকার মরদেহ পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পলাশ ওই শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করেছে। সে ওই শিশুর কানের দুল খুলে নিয়ে এক দোকানে বিক্রি করেছিল। সেটিও পুলিশ উদ্ধার করেছে।
সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

