নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ জুন বরিশাল সিটি করপোরেশনে ভোট গ্রহণ হবে। তফসিল ঘোষণার পর আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করলেও এখনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন।
ইসলামী আন্দোলন সূত্র বলছে, মঙ্গলবার চরমোনাই দরবার শরিফে দলের প্রধান মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম আনুষ্ঠানিকভাবে দলের মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবেন। এ জন্য সেখানে প্রস্তুতি চলছে। দুই হাজার দলীয় নেতা-কর্মীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, এবার বরিশাল সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে দলটি দুজনকে বিবেচনা করছে। তারা হলেন জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম এবং বরিশাল জেলার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্র ও যুববিষয়ক সম্পাদক মুফতি সৈয়দ এছহাক মুহাম্মাদ আবুল খায়ের। তারা দুজনই বর্তমান পীরের আপন ভাই এবং প্রয়াত চরমোনাই পীরের ছেলে। তাদের মধ্যে আবুল খায়ের চরমোনাই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান। মেয়র নির্বাচনকে লক্ষ্য রেখে তাকে দল থেকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। মনোনয়ন দেয়া হয় তার আরেক ছোট ভাই সৈয়দ মুহাম্মাদ জিয়াউল করিমকে। তিনি বর্তমানে ওই ইউপির চেয়ারম্যান।
দলটির নেতারা জানান, কেন্দ্রীয় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন এরই মধ্যে মেয়র পদে নির্বাচন করতে অপারগতার কথা দলীয় আমিরের কাছে জানিয়েছেন। তাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম ও মুফতি আবুল খায়ের- এই দুই ভাইয়ের মধ্যে একজন এবার দলীয় মনোনয়ন পেতে পারেন।
ইসলামী আন্দোলনের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলটি অনেক আগেই দেশের অন্য চার সিটিতে তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। কিন্তু বরিশালে মেয়র প্রার্থী হিসেবে এত দিনেও কাউকে চূড়ান্ত করা হয়নি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বরিশালে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মাওলানা উবাইদুর রহমান। কিন্তু এখন অনেকটা অসুস্থ হওয়ায় এবার তার প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এ জন্য বিকল্প প্রার্থী দিচ্ছে দলটি।
বরিশালের রাজনীতিতে এরই মধ্যে নিজেদের ভোটব্যাংক তৈরি করতে পেরেছেন বলে মনে করেন ইসলামী আন্দোলনের নেতারা। এ ছাড়া এবার এখানে বিএনপি নির্বাচনী মাঠে না থাকায় দলটির সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে। বরিশালে ইসলামী আন্দোলনের নিজস্ব ভোটব্যাংক থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে। ওই বছর বরিশাল-৫ (সিটি করপোরেশন-সদর) আসনে ২৭ হাজারের বেশি ভোট পায় দলটি। ওইবারে দলটির প্রার্থী ছিলেন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম।
২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে দলটি এককভাবে ১৬০টি আসনে প্রার্থী দিয়ে সারাদেশে ৬ লাখ ৫৮ হাজার ২৫৪ ভোট পায়। ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ নেয়নি দলটি। সর্বশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনে সব আসনে প্রার্থী দিয়ে আলোচনায় আসে দলটি। ভোট গ্রহণের দিন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফল বর্জনের ঘোষণা দিলেও সারাদেশে দলটি ১২ লাখ ৫৫ হাজার ৩৭৩ ভোট পায়। এরপর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলটির প্রার্থীরা ভালো ভোট পান। গত ১৬ মার্চ পটুয়াখালীর কলাপাড়া ও বরগুনার তালতলী উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের হারিয়ে তিনজন ইউপি চেয়ারম্যান পদে জয় পান। বরিশাল সদর উপজেলায় দুটি ইউনিয়নে বর্তমানে চেয়ারম্যান আছে এই দলের। ভোটের মাঠে বিএনপির অনুপস্থিতিতে বরিশাল সিটি নির্বাচনে সুযোগ কাজে লাগাতে চায় দলটি।
ইসলামী আন্দোলনের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আশরাফ আলী আকন বলেন, আমাকে এখানে প্রার্থী করার ইচ্ছা ছিল দলের। কিন্তু আমাকে নির্বাচনের সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করতে হবে। এ ছাড়া আগামী জাতীয় নির্বাচনে আমরা ৩০০ আসনে প্রার্থী দেব। সেই প্রার্থীদের বাছাইয়ের সঙ্গে আমি যুক্ত। সব মিলিয়ে সাংগঠনিক কাজে এত ব্যস্ততার মধ্যে আমার পক্ষে বরিশালে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া অসম্ভব। তাই আমি অপারগতা প্রকাশ করেছি।
প্রার্থী ঘোষণায় দেরি বিষয়ে আশরাফ আলী আকন বলেন, আমরা অপেক্ষায় ছিলাম অন্য দলগুলোর প্রার্থী ঘোষণার জন্য। এ জন্যই আমরা ধীরে চলো নীতি অবলম্বন করেছি প্রার্থী দেয়ার ক্ষেত্রে।

