যশোর মেডিকেল কলেজে (যমেক) ইন্টার্ন চিকিৎসককে পিটিয়ে দুই পা ও হাত ভেঙে দেয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে।
গতকাল শনিবার তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থী ও দুই পক্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ক্যাম্পাসে আর এ ধরণের অনাকাক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সেই কারণে নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে আগামী মঙ্গলবার রির্পোট জমা দেবেন বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। আর এই ঘটনার থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও এখনো মামলা হয়নি।
পুলিশ বলছে, বিষয়টি তদন্তনাধীন। তারা দুই পক্ষের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলছেন।
গত মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে যশোর মেডিকেল কলেজের ছাত্রবাসে জাকির হোসেন নামে এক ইন্টার্ন চিকিৎসককে বেধড়ক মারধর করেন অপর ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকালে আহতের বড়ভাই জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। আহত ইন্টার্ন চিকিৎসক জাকির হোসেন গুরুতর অবস্থায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হরিশ্বর গ্রামের মৃত সুরুজ জামানের ছেলে।
এদিকে মেডিকেল কলেজে ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় কলেজ প্রশাসন সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান নূর কুতুউল আলমকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত রিপোর্ট জমার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিটির সদস্য ও প্রভাষক ডা. আলাউদ্দিন আল মামুন বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। তদন্ত কমিটি জাকিরকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। জাকিরের হাত ও পা ভেঙেছে। বুকের হাড়েও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। কলেজ ক্যাম্পাস ও ছাত্রাবাসে যাতে আর কোন এমন ঘটনা না ঘটে সেই কারণে তদন্ত রিপোর্টটি দৃষ্টান্ত করার জন্য সঠিক ও নিরপেক্ষ রিপোর্ট দেয়া হবে। দ্রুতই অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জাকির হোসেন অভিযোগ করে জানান, ইন্টার্ন চিকিৎসক মেহেদী হাসান লিয়ন, শামীম হাসান, আব্দুর রহমান আকাশ, সাকিব আহমেদ তানিমসহ আরো ৩-৪ জন ছাত্রবাসের ১০৪ নম্বর কক্ষে প্রতিনিয়ত মাদকের আড্ডা বসান। রাতভর চিৎকার চেঁচামেচি করেন। ওই রুমের পাশেই তার রুম। এ কারণে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে। ফলে, তিনি বিভিন্ন সময়ে প্রতিবাদ করেন। এর জের ধরে গত মঙ্গলবার রাত পৌঁনে নয়টায় তারা তার রুমে প্রবেশ করে হকিস্টিক ও জিআই পাইপ দিয়ে তাকে বেধড়ক মারপিট করে। রাত ১১ টা পর্যন্ত মারতে থাকে তাকে। এক পর্যায়ে তার ঘর থেকে নগদ টাকা, মানিব্যাগ ও মোটরসাইকেল নিয়ে যায় তারা। পরে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়।
এই বিষয়ে জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও জেলা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুপন কুমার সরকার বলেন, কয়েকদফা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। বিষয়টি তদন্তাধীন।
এদিকে, দেশের ভবিষ্যত চিকিৎসকদের ছাত্রাবাসে মাদক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে মারামারি ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে। বিষয়টি নিয়েও বিব্রত সাধারণ শিক্ষার্থীরাও। তারা বলছেন, এই ঘটনার আগেও ছাত্রবাসে ছোট-বড় ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারাও দ্রুত তদন্ত শেষে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, ক্যাম্পাসে পরিবেশগত তেমন সমস্যা বড় দেখছি না; তবে কিছুদিন আগে ছাত্রাবাসে ঘটে যাওয়া ঘটনায় আমরা হতবাক লজ্জিত হয়েছি। ঘটনার জন্য শুধু যশোর মেডিকেল না; ডাক্তারদের সম্মানহানি হয়েছে। যেহেতু আমরা কয়েক দিন পরেই দেশের ফার্স্টক্লাস সিটিজেনের অন্তর্ভুক্ত হবো। তাদের আচরণ কাজকর্ম সেই রকম হওয়া উচিত ছিলো। এটা আমাদের কারোও কাম্য নয়।

