রাজশাহী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রবিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে মহানগরীর মাদরাসা মাঠে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন তিনি। এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে রাজশাহীজুড়ে সাজ সাজ রব বিরাজ করছে। এ ছাড়া মাদরাসা1 মাঠের চারপাশে সাজসজ্জা ছাড়াও তৈরি রয়েছে মঞ্চ।
সেই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন জায়গায় টাঙানো হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন। দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
এর আগে গত শুক্রবার মাদরাসা মাঠ পরিদর্শন করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান এবং তথ্যমন্ত্রী ও দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
প্রধানমন্ত্রীর জনসভা উপলক্ষে রাজশাহী মহানগর এলাকায় কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। গত বুধবার দুপুরে আরএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) রফিকুল আলমের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জনসভাকে কেন্দ্র করে ২৭ জানুয়ারি সকাল ৬টা থেকে ৩০ জানুয়ারি সকাল ৬টা পর্যন্ত সব ধরনের অস্ত্রশস্ত্র বহন, আতশবাজি, পটকা ফুটানো, বিস্ফোরকদ্রব্য বহন, সংরক্ষণ, ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবহার এবং অনুমতি ছাড়া ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
আরও বলা হয়, যে কোনো ধরনের মাদকদ্রব্য যেমন, দেশি-বিদেশি মদ, স্পিরিট/অ্যালকোহলসহ নেশাজাতীয় দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব অনুমোদিত বার, মদের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনিব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তাকর্মীদের অস্ত্র এ নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত নয়।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় মানুষ যেন নির্বিঘ্নে গিয়ে ভালোভাবে ফিরতে পারে, সেজন্য আজ সকাল থেকে রাজশাহীতে চলবে সাতটি বিশেষ ট্রেন।
গতকাল শনিবার রাত ৮টার দিকে বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) অসীম কুমার তালুকদার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভা উপলক্ষে সাতটি বিশেষ ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ট্রেনগুলো হলো, নাটোর স্পেশাল, সিরাজগঞ্জ স্পেশাল, জয়পুরহাট স্পেশাল, সান্তাহার স্পেশাল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্পেশাল, রহনপুর স্পেশাল ও আড়ানী স্পেশাল ট্রেন।
তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগের এমপি শেখ হেলালের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা দীর্ঘ ১৫ দিন ধরে পরিকল্পনা করে বিশেষ এই ট্রেনগুলো রবিবার রাজশাহী থেকে বিভিন্ন রুটে এবং বিভিন্ন রুট থেকে রাজশাহীতে যাতায়াতের ব্যবস্থা করতে সক্ষম হয়েছি। ট্রেনগুলো দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যেই রাজশাহীতে পৌঁছাবে। সাতটি বিশেষ ট্রেনে সাড়ে ১৪ হাজার যাত্রী পরিবহন করা যাবে।
রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ দারা বলেন, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের এই মহতি উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সারা দেশের মতো রাজশাহীতে যে উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ করেছেন তাতে রাজশাহী অঞ্চলের জনগণ তার প্রতি অনেক খুশি। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের কথা, আগামীতে দেশ পরিচালনার বার্তাগুলো সরাসরি রাজশাহীর জনগণ শুনতে চান। তাই প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনতে রাজশাহী শহর জনসমুদ্রে পরিণত হবে। অতিরিক্ত ৭টি ট্রেন চালু করায় জনগণের নির্বিঘ্নে চলাচল করতে অনেক বেশি সুবিধা হবে।

