যশোরের চৌগাছায় কথিত রাজাকারের জিম্মি সরকারী বিলের ভোগ দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের। উপজেলার লস্কারপুর গ্রামের চেরাক আলী ও নাদনার খালের মাঝে অবস্থান ভাতুড়িয়া বিল। শৈশবের সেই স্মৃতি জড়িত বিল পাকবাহিনীদের সহযোগী জয়নুদ্দীনের জিম্মি থেকে ফিরে পেতে চায় স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই খালের সংযোগ স্থলে ভাতুড়িয়া বিলের অবস্থান। কপোতাক্ষ নদ হতে বহমান খালে সংযোগ স্থান রাইশার বিলের। লস্কারপুর মৌজায় ৫৯১ খতিয়ানের ৬১৭, ৬০৯ ও ৬১৫ নং দাগের রাইশার বিল ও ফতেপুর বাওড়ের সংযোগ স্থল ও চেরাকআলী খাল-নাদনার খালের মাঝে ভাতুড়িয়া বিল। বিলটি এক খতিয়ানের ১৯৬২ সালে সরকারী রেকর্ড থাকলেও ১৯৮০ সালের পর থেকেই নিজেদের দাবী করেন লস্কারপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম ওরফে বগা, মহিউদ্দীন ও জয়নুদ্দীন ওরফে দলু। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে নিজেদের বলে রেকর্ড করেন সরকারী বিল। ৯.২ একর বিলটি নিজেদের মতো করে বাধ দিয়ে মাছ চাষ করছে জয়নুদ্দীনসহ তার ভাই বোন। এদিকে খালের গতি রোধ করায় প্লাবিত হচ্ছে আশেপাশের ফসলী জমি। সরকারী খালের সংযোগ স্থল বিল ও খালের গতি রোধ করে বাধঁ দেওয়ায় প্রশাষনের আশু কামনা করেছে ভুক্তভোগী কৃষকগণ ও স্থানীয়রা।
সত্তরোর্দ্ধ বয়সী গাজী রওশন আলী, মতিয়ার রহমান, শাহজান আলী, তবজেল গাজী, মহাম্মদ আলীসহ একাধিক স্থানীয় জানান, যুদ্ধের আগে আমরা এই বিলে ধাব টেনে মাছ ধরতাম, পাট জাগ(পচনজাত করন) দিতাম, নাওয়া-খাওয়াসব কিছুর সাথে স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই বিল। পাকিস্তানী আমলে রেশনের ডিলার নেবে বলে আমাদের গ্রামের সকলের কাছ থেকে আঙ্গুলের ছাপ ও স্মাক্ষর নেয় রবিউল। ফাঁকা কাগজে গণস্মাক্ষরের বিষয়ে পরে জানতে পারি তারা বিল নিজেদের বলে দাবি করেছে।
বিষয়টি জয়নুদ্দীনের সাথে জানতে চাইলে বলেন, জমিটি আমাদেরই ছিলো সরকার নিজের দাবী করলে আমরা আদালতের স্মরনাপন্ন হয়। আদালতের মাধ্যমে আমরা বিলটি আবারো ফিরে পায়।
এবিষয়ে সদর ইউনিয়নের ভূমি কর্তকর্তা আবু সাইদ মোল্লা বলেন, সরকারী বিল থাকলেও পরবর্তীতে তারা আদালতে মামলার মাধ্যমে তাদের পক্ষে রায় পাই। সরকারী ভাবে পরবর্তীতে তেমন কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কিনা যাচাই করবো।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানা বলেন, ইউনিয়নের নায়েব সাথে কথা বলে বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।

