মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি), মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতর ও কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর থেকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য পদের তালিকা যাচাই-বাছাই শেষে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) কাছে পাঠানো হয়েছে। মামলার জটিলতা কাটলে এবং নতুন করে যোগ হওয়া কিছু পদ বাতিলের আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে যে কোনো সময় চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে এনটিআরসিএ।
বিষয়টিকে সাধুবাদ জানিয়েছে এনটিআরসিএর সুপারিশ পাওয়া শিক্ষকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ শিক্ষক ফোরাম।
এ বিষয়ে ফোরামের আহবায়ক শান্ত আলী বলেন, প্রায় ৭০ হাজার শূন্যপদ নিয়ে পাঠদানের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তা ছাড়া নতুন কারিকুলামের সফলতা আনতে হলে চাকরিপ্রত্যাশী এসব তরুণ শিক্ষকের বিকল্প নেই। আমরা চাই দ্রুত গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে দ্রুত যোগদানের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিবে। এবার যোগদান ও এমপিও প্রক্রিয়া অবশ্যই সহজতর বা অটোমশন করার জোর দাবি থাকবে।
এনটিআরসিএ সূত্র জানায়, চলতি বছরের ২৬ জুন চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশে বেসরকারি ও কারিগরি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শূন্যপদের তথ্য সংগ্রহ শুরু করে এনটিআরসিএ। কাজটি করা হয় অনলাইনের মাধ্যমে। এ কার্যক্রম চলে ৩১ জুলাই পর্যন্ত। এরপর শূন্যপদের চাহিদা এলে তা যাচাই করতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর, মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতর ও কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরে পাঠানো হয়। উপজেলা থেকে জেলা, জেলা থেকে বিভাগ, বিভাগ থেকে যাচাই-বাছাই শেষে শূন্য পদের তালিকা এসেছে তিন অধিদফতরে। এরপর অধিদফতরগুলো সম্প্রতি সেই তালিকা এনটিআরসিএতে পাঠিয়েছে।
জানা গেছে, মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতর থেকে ৩৬ হাজার ৫৬২টি, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর থেকে স্কুল ও কলেজ মিলে ৩২ হাজার ৫০০টি এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর থেকে ১ হাজার মিলিয়ে মোট ৭০ হাজার ৯৫টি শূন্যপদ পাওয়া গেছে।
এনটিআরসিএ’র এক কর্মকর্তা বলেন, কোর্টের মামলার একটা বিষয় আছে। এনটিআরসিএ’র বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে প্রার্থীদের করা কিছু মামলা রিভিউয়ে আছে। আবার সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে এনটিআরসিএ। শুনানি হয়ে গেলে গণবিজ্ঞপ্তি দেয়া হবে।
এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান এনামুল কাদের খান বলেন, যাচাই-বাছাই শেষে আমরা অধিদপ্তরগুলো থেকে শূন্য পদের তালিকা পেয়েছি। তবে এখনো অনেক প্রতিষ্ঠান থেকে পদ বাতিলের আবেদন পাচ্ছি। সেগুলো এনটিআরসিএতে যাচাই-বাছাই করা হবে। আর চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য গত সপ্তাহে আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি চেয়ে চিঠি দিয়েছি। অনুমতি পেয়ে গেলে আমরা যে কোনো দিন গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবো।

