দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবীদের উদ্দেশে হাইকোর্ট বলেছেন, আপনারা চুনোপুঁটি ধরছেন। যারা অর্থশালী, ক্ষমতাবান, তারা কি ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে? এদের ধরবে কে?
বেসরকারি একটি ব্যাংক থেকে ১১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় দুই আসামির জামিন বাতিল প্রশ্নে রুল শুনানিতে রবিবার হাইকোর্ট এ প্রশ্ন রাখেন। বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি হয়।
বিসমিল্লাহ টাওয়েলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) খাজা সোলায়মান আনোয়ার চৌধুরীসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালে ২৯ মার্চ রমনা থানায় মামলাটি করেন শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ইস্কাটন শাখার ব্যবস্থাপক নকীবুল ইসলাম।
মামলায় ২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর ব্যাংকটির ইস্কাটন শাখার সাবেক ডেপুটি ম্যানেজার এ এস এম হাসানুল কবীর, তৎকালীন জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মান্নাতুল মাওলাসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়।
মামলায় ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর ওই দুজন বিচারিক আদালত থেকে জামিন পান। এ জামিন বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করে দুদক। শুনানি নিয়ে ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল দেন। আর ২০১৮ সালে ওই মামলায় অধিক তদন্তের নির্দেশ দেন বিচারিক আদালত। দুজনের জামিন বাতিল প্রশ্নে রুল শুনানির জন্য আজ বিষয়টি আদালতের কার্যতালিকায় ওঠে।
আদালতে দুদকের পক্ষে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান ও এম এ আজিজ খান শুনানিতে ছিলেন। দুই আসামির পক্ষে আইনজীবী জিয়াউল হক ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন শুনানিতে ছিলেন।
শুনানিতে দুদকের আইনজীবীদের উদ্দেশে আদালত বলেন, ১১০ কোটি টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে ২০১৩ সালে এজাহার হলো। ২০১৫ সালে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এদের কেন ধরতে পারছেন না? এদের ধরবে কে? আপনারা ধরছেন চুনোপুঁটি। এতে কী বোঝা যায়; যারা অর্থশালী, ক্ষমতাবান, তাদের বিরুদ্ধে মামলা (বিচার) হবে না। এরা কি ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে?
এ সময় দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, অবশ্যই দুদকের ধরা উচিত, এদের ধরবে।
দুদকের আইনজীবীর উদ্দেশে আদালত বলেন, ২০১৮ সালের অধিক তদন্তের নির্দেশ দেন বিচারিক আদালত। বছরের পর বছর চলে গেছে। অধিক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়নি, এখনো অভিযোগপত্রও হয়নি। বিষয়টি সিরিয়াসলি দেখবেন—এ নিয়ে দুদক চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলবেন। ২০১৩ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ৯ বছর চলে গেছে। এরা কি ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে? কেন প্রতিবেদন দেয়া হচ্ছে না?
একপর্যায়ে ওই দুই আসামির আইনজীবী জিয়াউল হক বলেন, আমরা তো নিম্নস্তরের ব্যাংকার।
আদালত বলেন, মামলার প্রধান আসামি খাজা সোলায়মান কে?
তখন খুরশীদ আলম খান বলেন, বিসমিল্লাহ গ্রুপের, উনি পলাতক। এক মামলায় তার সাজাও হয়েছে। তাকে ধরতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড অ্যালার্ট জারি করতে আদালতের আদেশ আছে।
শুনানির একপর্যায়ে অন্য এক মামলার জন্য আদালতে আসেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে আদালত বলেন, দেখেন, মামলার অবস্থা। ২০১৩ সালের মামলায় এখনো অভিযোগপত্র হয়নি, প্রতিবেদন দেয়নি।
এ বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যানের সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেলকে কথা বলতে বলেন আদালত। একপর্যায়ে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, হালনাগাদ তথ্য জানাবো। পরে আদালত ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেন।

