খ্রিস্ট ধর্মের বাৎসরিক কবর আর্শিবাদ দিবস পালন করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে যশোর শহরের কারবালা মোড়ে খ্রিস্টান কবরস্থানে এই দিবস পালন করা হয়। সারা বিশ্বের সাথে এদিনে খ্রিস্ট ধর্মের অনুসারীরা মৃত স্বজনের কবরে ফুল, মোমবাতি ও ধুপ দিয়ে শ্রদ্ধা ও মৃতদের আত্মার শান্তি কামনায় আর্শিবাদ করা হয়।
যশোর শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সব বয়সের নারী-পুরুষ-শিশু খ্রিস্ট ধর্মের অনুসারীরা যশোর ক্যাথলিক কবরস্থানে উপস্থিত হয়। এ সময় খ্রিস্টজাগ পরিচালনা করেন যশোর ক্যাথলিক চার্চের পালক পুরোহিত ফাদার নরেন জে. বৈদ্য। এ সময় তিনি বলেন, আমরা সমস্ত মৃত লোকদের জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা জানাই; যেন তিনি পরলোকগত ভক্তদেরকে সমস্ত পাপ ক্ষমা করে স্বর্গরাজ্যে স্থান দেন।
শেষে প্রতিটি কবরে পবিত্র জল দ্বারা আর্শিবাদ করেন তিনি। এ সময় পরলোকগতদের প্রতি স্মৃতিকাতরতায় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন স্বজনেরা।
নিমল রতন বারই, প্রশান্ত বিশ্বাস, ক্রেগরী সরকার, শিশির মৃধা ও স্বপন সরকার বলেন, আমরা নভেম্বর মাসে বেশী করে পরকাল তত্ত্ব মৃত্যু, শেষবিচার, স্বর্গ, নরক ও প্রচিগ্নিস্থান বিষয়ে অনুধ্যান করি। নমৃত লোকেরা আমাদের শিক্ষা দিচ্ছেন যে, এই পৃথিবী আমাদের স্থায়ী বাসস্থান নয়। আমাদের মৃত্যু অনিবার্য, পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। কবর স্থান আমাদের ঠিকানা বিশ্বাসীভক্তের জীবন বিনাশ হয় না: মৃত্যুতে তা রুপান্তরিত হয় মাত্র। আমাদের যাত্রা পারলৌকিক যাত্রা।
একদিন সব কিছু ছেড়ে এই ধরাধাম ত্যাগ করতে হবে। মৃত্যু বিচ্ছেদ নয়। মৃত্যু মহা মিলন। আমাদের বিশ্বাস আমরা মিলিত হবো মরণ বিজয়ী যীশুর সাথে, স্বর্গের রাণী মা মারীয়ার সাথে। স্বর্গের অগণিত সাধু সাধ্বীর সঙ্গে।

