যশোরে সাজ্জাদের ছাদ বাগানে ঔষধী গুণসম্পন্ন ৩৫০টি শ্বেতচন্দন

আরো পড়ুন

বিলুপ্ত প্রায় শ্বেতচন্দন গাছের ছাদ বাগান করেছেন যশোরের শহরের বাঘমারা পাড়ায় বৃক্ষ প্রেমী সাজ্জাদ হোসেন। দেশে দুষ্প্রাপ্য হলেও সাজ্জাদ হোসেনের ছাদ বাগানে শোভা পাচ্ছে ঔষধী গুণসম্পন্ন ৩৫০টি শ্বেতচন্দন গাছ।

চন্দন গাছের পাতা ও কাঠ থেকে তৈরি তৈল দিয়ে বানানো হয় নামিদামী প্রসাধনী ব্যান্ডের কাঁচামাল। শ্বেতচন্দন বনসাইয়ের আর্ন্তজাতিকভাবে এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যাবে রফতানির জন্য সরকারি সহযোগিতা পেলে। আর্ন্তজাতিক বাজারে একটি প্রাপ্ত বয়স্ক শ্বেতচন্দন গাছের দাম ৮ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা।

দেশের সফল শ্বেতচন্দন বনসাই উৎপাদনকারী সাজ্জাদ হোসেন ২০০৭ সালে কাজের সুবাদে মালয়েশিয়া যায়। সেখানে তিনি এক চীনা নাগরিকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নান্দনিক ভাবে সাজানো বনসাই দেখে দেশে ফিরে নিজের উদ্যোগেই তৈরি করেছে এই বাগান। আট বছরের একটি শ্বেতচন্দন বৃক্ষের দাম দুই লাখ টাকার বেশি বলে তিনি জানান। সাদা চন্দনের গাছ থেকে পাতন ব্যবস্থায় তেল নিষ্কাশন করে প্রসাধনী, ঔষধ ও দামী আতর শিল্পে ব্যবহার করা হয়।

সাজ্জাদ হোসেন বলেন, যশোর সদর উপজেলার বন বিভাগের ঝুমঝুমপুর এলাকার নার্সারি থেকে ১০টি শ্বেতচন্দনের চারা সংগ্রহ করি। সেই ১০টি চারা থেকে আজ ৩৫০ শ্বেতচন্দনের গাছ শোভা পাচ্ছে ছাদ বাগানে। চারা নিজেই তৈরি করেছেন; এখনো করছেন। বর্তমানে তার বাগানে ৮ বছর বয়সী ৬০টি, ৭ বছর বয়সী ৯০টি, ৬ বছর বয়সী ১৩০টি এবং ৪ বছর বয়সী ৭০টি শ্বেতচন্দনের বনসাই রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দেশে বর্তমানে জনপ্রিয় একটি নাম ছাদ কৃষি। এখন আর শখের জায়গায় আটকে নেই এই কৃষি, বর্তমানে পারিবারিক চাহিদা পূরনের পাশাপাশি বানিজ্যিকভাবেও চাষ করছে অনেকে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে এখন বিদেশে রফতানি হচ্ছে বিভিন্ন বনসাই।

সাজ্জাদ হোসেন বলেন, চন্দন কাঠের চাষ বেশ লাভজনক, আমাদের দেশের পাশাপাশি বিদেশেও এর বেশ চাহিদা রয়েছে। এই গাছ চাষে তেমনভাবে কোনো খরচও নেই। সেচও লাগে কম। সঠিক নিয়মে রোপণ করে প্রথম দুই বছর গাছের সঠিক পরিচর্যা ও যত্ন নিতে পারলেই গাছটি থেকে পাতা ও কাঠ সংগ্রহ করা যাবে। ঔষধী ও প্রসাধনীর জন্য এই গাছের দেশে ও দেশের বাহিরে প্রচুর কদর রয়েছে।

সাজ্জাদ হোসেনের ছাদে আরো শোভা পাচ্ছে দেড় শতাধিক বট, পাকুড়, অ্যাডেনিয়াম, অশ্বত্থ, তেঁতুল অর্জুন, সৌদি খেজুর, পলাশ, বাগানবিলাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ