আল-মামুনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ১১ জানুয়ারি, কে হচ্ছেন নতুন আইজিপি?

আরো পড়ুন

সব ঠিক থাকলে ১৪ মাস পর অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। রাজপথে বিএনপিসহ বিরোধীদের তৎপর হয়ে ওঠা, আর আওয়ামী লীগের পাল্টা বক্তব্যে গরম হয়ে উঠছে নির্বাচনের মাঠ। পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। এরই মধ্যে শেষ হয়ে যাচ্ছে পুলিশপ্রধানের (আইজিপি) মেয়াদ। কে হবেন নির্বাচনকালীন আইজিপি-এ নিয়ে রাজনীতির ময়দান থেকে পুলিশ প্রশাসনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, আগামী ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত বর্তমান আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের চাকরির মেয়াদ রয়েছে। বয়সজনিত কারণে আগামী নির্বাচনের আগেই তাকে বিদায় নিতে হবে। পরবর্তী আইজিপিই নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন। এ জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে পুলিশের এ সর্বোচ্চ পদ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ ও পুলিশ সদরদফতরের নানা স্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আরো অন্তত চার মাস দায়িত্বে থাকছেন বর্তমান আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন। ফলে এখনই পরবর্তী আইজিপি কে হচ্ছেন তা নিয়ে দাফতরিক কিছু নেই। তবে আলোচনায় রয়েছেন বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের দুই ব্যাচের তিন কর্মকর্তা।

আলোচনায় তিন কর্মকর্তা

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পরবর্তী আইজিপি হওয়ার দৌড়ে আলোচনায় রয়েছেন পুলিশ ক্যাডারের ১২ ব্যাচের কর্মকর্তা এস এম রুহুল আমিন, কামরুল আহসান এবং ১৫ ব্যাচের কর্মকর্তা  মনিরুল ইসলাম। অতিরিক্ত আইজিপি রুহুল আমিন তার ব্যাচে প্রথম স্থান অধিকারী। বর্তমানে এই কর্মকর্তা পুলিশের অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) চিফের দায়িত্বে রয়েছেন। কামরুল আহসান পুলিশ সদরদফতরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) পদে রয়েছেন। ১৫ ব্যাচের কর্মকর্তা অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সাধারণত অতিরিক্ত আইজিপিদের মধ্য থেকে একজনকে আইজিপি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। সে ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত পুলিশের ওই তিন কর্মকর্তা নির্বাচনকালীন আইজিপি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছেন। অবশ্য বর্তমান আইজিপিকে মেয়াদ বাড়িয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিষয়েও রয়েছে গুঞ্জন। তবে এখন পর্যন্ত দেশে এই পদে চুক্তিভিত্তিক কোনো নিয়োগ হয়নি।

সূত্রগুলো বলছে, রেওয়াজ অনুযায়ী সিনিয়র হিসেবে ১২ ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে পরবর্তী আইজিপি নিয়োগ দেয়ার কথা। অপেক্ষাকৃত এক ব্যাচ জুনিয়র এসবি চিফ মনিরুল ইসলাম পরবর্তী আইজিপি হতে পারেন বলে জোর আলোচনা রয়েছে। পুলিশ বাহিনীতে ক্লিন ইমেজ, নেতৃত্ব গুণসম্পন্ন আর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পারদর্শী হিসেবে তাকে সবাই চেনেন। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এ কর্মকর্তা নানা সময়ে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন। জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে দেশের বাইরেও উগ্রবাদ দমনে যুক্ত সংস্থাগুলোর কাছে তার পরিচিতি রয়েছে।

গোপালগঞ্জ জেলায় জন্ম নেয়া মনিরুল ইসলাম বিভিন্ন জেলা, মেট্রোপলিটন পুলিশে দায়িত্ব পালন ছাড়াও জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে গঠিত ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রথম চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

পুলিশের আরেক চৌকস কর্মকর্তা এটিইউর অতিরিক্ত আইজিপি রুহুল আমিনের বাড়িও গোপালগঞ্জে। এর আগে তিনি পুলিশ সদরদফতরে বিভিন্ন বিভাগে অতিরিক্ত আইজিপির দায়িত্ব পালন ছাড়াও বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চট্টগ্রাম রেঞ্জ, রেল পুলিশসহ চাকরিজীবনে বিভিন্ন মেট্রোপলিটন ও জেলার এসপি হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

অতিরিক্ত আইজিপি কামরুল আহসানের জন্ম চাঁদপুরের মতলবে। পুলিশের এ কর্মকর্তা এটিইউর চিফ, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ছাড়াও বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালন করেন।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ