‘আত্মহত্যা সমাধান নয়’ বার্তা নিয়ে ভারতীয় যুবক সাইকেলে মণিরামপুরে

আরো পড়ুন

আক্তারুজ্জামান সুমন, মণিরামপুর: আত্মহত্যা কোনদিন যন্ত্রনার অবসান নয়, বরং আত্মহত্যা করে আমরা এটাকে প্রচার করে দিচ্ছি। যেটা অন্যকে উৎসাহিত করছে। আমরা মনে করছি আত্মহত্যা করলে আমাদের যন্ত্রনা থেকে মুক্ত হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কখনো আমরা পরিবার ও সমাজের কথা ভাবছি না। মরে গেলেই যন্ত্রনার অবসান ঘটছে না, এই যন্ত্রনা অন্যদের উপর চাপিয়ে চলে যাচ্ছি। এছাড়াও আত্মহত্যার এক প্রকার ফ্রি মার্কেটিং করে দিয়ে যাচ্ছি। এমনটি মনে করেন, ডিপ্রেশন থেকে মুক্ত হতে সাইকেল নিয়ে বিশ্ব ভ্রমণে বের হওয়া ভারতের যুবক সঞ্জয় বিশ্বাস।

জানা যায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর দেশের সব থেকে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল ইমিগ্রেশন দিয়ে বাইসাইকেল চালিয়ে সঞ্জয় বিশ্বাস বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। তার বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগুনা জেলার গাইঘাটা গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের সুমন্ত বিশ্বাসের ছেলে।

যশোরের মণিরামপুর প্রেসক্লাবে মতবনিময়কালে সঞ্জয় বিশ্বাস জানান, ভারতের উত্তর প্রদেশে তার রেস্টুরেন্ট ব্যবসা ছিল। ব্যবসা ভালই চলছিল। হঠাৎ তিনি সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে তিনমাস চিকিৎসরত ছিলেন। তিনমাস ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সময় দিতে না পারাই লোকশানের সম্মুক্ষীণ হন। এরপর অনেক কষ্ট করে ধার দেনা হয়ে পুনরায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দাড় করান। সবকিছু স্বাভাবিক হওয়ার আগের নতুন সমস্যায় পড়েন। সারা বিশ্বের ন্যায় করোনার প্রভাব তারর উপরও পড়ে। চোখের সামনে নিজের ৫ বছরের ব্যবসা শেষ হতে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না তার। একের পর লোকশানের দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়েন তিনি। যার প্রভাবে তিনি ২ বার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। পরিবারের সহযোগিতায় জন্য বেঁচে গেছেন।

পরে তিনি উপলব্ধি করেন এটা সমস্যার সমাধান নয়, বরং নতুন সমস্যার সৃষ্টি করা। এরপর তার এক কাকিমার পরামর্শে ঘর থেকে বাইরে সাইকেল চালানো শুরু করেন। এবং এখন তিনি পুরোপুরিভাবে দুশ্চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসেছেন। তিনি চান তিনি যেমন এই দুশ্চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসেছে তিনি অন্যদেরও সচেতন করবেন। কেউ যেন দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে আত্মহত্যার পথকে বেঁচে না নেয়।

যার প্রেক্ষিতে ২০২১ সালের ৩০ আগস্ট ‘আত্মহত্যা সমস্যার সমাধান নয় বরং নতুন সমস্যার শুরু; এই প্রচার সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিতে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। ইতোমধ্যে তিনি ভারতের ২৪ রাজ্যে তার এই বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। এখন বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় তার এই বার্তা পৌঁছে দেয়ার লক্ষে বাংলাদেশে এসেছেন।

তার এই কাজকে সাধুবাদ জানিয়ে মণিরামপুর উপজেলা চেযারম্যান নাজমা খানম ও উপজেলা নির্বাহী আফিসার কবির হোসেন তার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। তারা তার দেশে থাকাকালীন সার্বিক সহযোগীতার কথা জানিয়েছেন। এছাড়া দেশে থাকা কালীন তাকে নিয়ে মণিরামপুরে একটি আত্মহত্যা প্রতিরোধক সেমিনারের উদ্যোগ গ্রহণ করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ