ফ্রি ভিডিও ও সিনেমা দেখার সেরা ৭ ওয়েবসাইট

আরো পড়ুন

প্রতি মিনিটে হাজারও ভিডিও আপলোড হচ্ছে ইউটিউব, ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। যার ফলে, পছন্দমতো কনটেন্ট খুঁজে পাওয়া অনেক সময় বেশ কঠিন হয়ে উঠে।

তাই এ সমস্যা থেকে আপনাকে উদ্ধারের জন্য রয়েছে ভিডিও কিউরেটর প্ল্যাটফর্মগুলো। অনলাইনে অসংখ্য ভিডিওর পাহাড় থেকে দেখার মতো ভিডিওগুলো খুঁজে বের করার দক্ষতা আছে ভিডিও কিউরেটরের। ভিডিও কিউরেটররা শত শত ভিডিও দেখেন এবং সেখান থেকে সেরা ভিডিওগুলো সংগ্রহ করে সেগুলো ইউটিউব বা অন্য ওয়েবসাইটে প্লেলিস্ট আকারে সাজিয়ে রাখেন।

এই কিউরেটররা পূর্ণাঙ্গ সিনেমা থেকে শুরু করে ডকুমেন্টারি, ভাইরাল ভিডিওসহ দেখার মতো সেরা ইউটিউব ভিডিওগুলো খুঁজে বের করে আনেন। যাতে আপনি অনুসন্ধানের পেছনে কম সময় ব্যয় করে আরও বেশি সময় ধরে দেখার সুযোগ পান।

সিনেটাইমস

আপনি যখন ইউটিউবে পোস্ট করা একটি সম্পূর্ণ সিনেমা দেখেন। স্বাভাবিকভাবেই আপনার প্রথম প্রতিক্রিয়া হতে পারে যে, এটি সম্ভবত পাইরেসি করা। কিন্তু না, ইউটিউবে সিনেমার একটি বিশাল সংগ্রহ রয়েছে, যা আপনি বিনামূল্যে এবং বৈধভাবে স্ট্রিম করতে পারেন। তবে, এইগুলো খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে, সিনেটাইমস ইউটিউব, ভিমিও, এবং আর্কাইভ.ওআরজি থেকে বিনামূল্যের স্ট্রিমিং সিনেমাগুলো সংগ্রহ করে নেটফ্লিক্স-এর মতো ইন্টারফেসে দেখায়।

আপনি যদি নেটফ্লিক্স, প্রাইম ভিডিও বা হুলু ব্যবহার করে থাকেন তাহলে আপনার কাছে এটি সুবিধাজনক লাগবে। এখানে আপনি আইএমডিবি অনুসারে রেটিং করা সেরা চলচ্চিত্র, সর্বাধিক জনপ্রিয়, সবশেষ যোগ করা চলচ্চিত্র, ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র, অপরাধ, সায়েন্স ফিকশন, ফ্যান্টাসি ইত্যাদির মতো বিভাগ অনুসারে বাছাই করা চলচ্চিত্রের পোস্টার এবং সারি সারি নাম দেখতে পাবেন।

সিনে টাইমস মূলত ৩টি বিভাগে কনটেন্ট সংগ্রহ করে, সেগুলো হলো- চলচ্চিত্র, কার্টুন ও ডকুমেন্টারি। আপনি এখনো এখানে পূর্ণ-সংস্করণের টিভি সিরিজ খুঁজে পাবেন না। এ ছাড়া সাইটে নিবন্ধিত ব্যবহারকারীরা পরবর্তীতে দেখার জন্য তাদের তালিকায় প্রিয় সিনেমা যোগ করে রাখতে পারেন।

টপিক প্লে

ইউটিউবের ফ্রন্ট পেজে তাকালে আপনার মনে হতে পারে যে, এটি অবিবেচকভাবে বিনোদনের উপকরণ প্রদর্শন করা হয়েছে। কিন্তু আমরা সবাই জানি যে, ইউটিউবে কিছু জ্ঞানার্জনমূলক এবং শিক্ষামূলক চ্যানেল রয়েছে, যেগুলো বিনোদনের সঙ্গে শিক্ষার জন্য খুবই দুর্দান্ত। টপিক প্লে ইউটিউবের নির্বোধ বিষয়গুলোকে বাদ দিয়ে, আপনাকে শুধু সেরা শিক্ষামূলক বিষয়গুলো দিতে চায়।

এখানে রয়েছে ৫টি প্রধান বিভাগ (ব্যবসা, উন্নয়ন, নকশা, শিক্ষা এবং বিজ্ঞান) এবং বেশ কয়েকটি উপ-বিভাগ (স্টার্টআপ, ইউএক্স বা ইউআই, অর্থনীতি, গণিত, টিউটোরিয়াল, গেম ডেভেলপমেন্ট, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, নো কোড এবং জাভাস্ক্রিপ্ট)। এখানের চ্যানেল এবং ভিডিওর কন্টেন্টগুলো প্রধানত ডেভেলপারদের লক্ষ্য করে তৈরি।

এখানে নিবন্ধিত ব্যবহারকারীরা তাদের অনুসরণ করা চ্যানেল বা নির্মাতাদের নতুন আপলোডের আপডেট পেতে পারেন। এ ছাড়া প্লে লেটার প্লেলিস্টে ভিডিওগুলো পরে দেখার জন্য সংরক্ষণ করতে পারেন। আপনি আপনার সাবস্ক্রিপশন এবং আগ্রহের ওপর ভিত্তি করে একটি পারসোনালাইজড ভিডিও ফিডও পাবেন।

ইন্ডোকাস

স্বাধীন ধারার ডকুমেন্টারি ফিল্মমেকারদের কনটেন্ট আপলোড করার জন্য জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে ইউটিউব। যাতে বিপুল পরিমাণে দর্শক সহজেই কাজগুলো দেখতে পারেন। ইন্ডোকাস বিভিন্ন ঘরানার সেরা ইন্ডিপেনডেন্ট ডকুমেন্টারিগুলো কিউরেট করে।

আপনি এখানে অর্থ বিষয়ক, সেলফ-হেল্প ও মনোবিজ্ঞান, অপরাধ, গণিত, বিজ্ঞান, নকশা ও শিল্প, ব্যক্তিগত গল্প এবং ইতিহাসের মতো বিভিন্ন বিভাগ দিয়ে তালিকাটি ফিল্টার করতে পারেন এবং ভিডিওর দৈর্ঘ্য ছোট, মাঝারি নাকি দীর্ঘ হবে তা ঠিক করে নিতে পারেন।

এর ক্রিয়েটর পৃষ্ঠার মাধ্যমে, ইন্ডোকাস আপনাকে নতুন ইউটিউব ক্রিয়েটরদের খুঁজে পেতে সহায়তা করে।

দ্য অওসামার ভিডিওস

কয়েক বছর আগে পর্যন্ত, বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইট, ব্লগ এবং কিউরেটর ছিল যারা দেখার জন্য সেরা ইউটিউব ভিডিও বেছে বের করত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেগুলোর বেশিরভাগই হারিয়ে গেছে। কিন্তু দ্য অওসামার ভিডিওস এক দশকেরও বেশি সময় ধরে টিকে আছে এবং তারা এমন ইউটিউব ভিডিওগুলোর সন্ধান করে যা আপনি মিস করতে চান না।

ব্রাউজের জন্য এর ইন্টারফেসটি বেশ ভালো। প্রতিটি কার্ডে ভিডিওর নাম এবং থাম্বনেইল রয়েছে, সঙ্গে দ্য অওসামার দলের দ্বারা লেখা একটি কাস্টম বিবরণও রয়েছে।

তবে, এর সুবিধাগুলোর পাশাপাশি এর কিছু ত্রুটিও রয়েছে। আপনি এতে উপ-বিভাগ বা ট্যাগ দিয়ে এর ভিডিওগুলো ব্রাউজ করতে পারবেন না। তবুও ১০ বছরের বেশি সময় ধরে আবিষ্কার করা ভিডিওর বিশাল সংগ্রহ থেকে আপনাকে প্রচুর পরিমাণে সেরা ইউটিউব ভিডিও দেখার সুযোগ করে দেবে।

টিউনড.রকস

অনেক সময় আপনি আপনার ব্রাউজারে ইউটিউব চালু করে এটিকে অটোপ্লেতে রেখে দেখতে থাকেন। কিন্তু প্রায়ই দেখা যায়, কয়েকটি আকর্ষণীয় ভিডিওর মাঝখানে কিছু বিরক্তিকর ভিডিও চালু হয়ে যায়। তাই পরের বার যখন আপনি অফুরন্ত ইউটিউব ভিডিও দেখার মুডে থাকবেন, তখন টিউনড.রকস সাইটে ঢু মারতে পারেন।

ওয়েব অ্যাপটি বিভিন্ন বিষয়ে কিউরেটেড প্লেলিস্ট অফার করে, যা আপনি চালু করে অবিরামভাবে চালিয়ে যেতে পারেন। এর মোট ৬টি ক্যাটাগরি রয়েছে: সঙ্গীত, টিভি, খেলাধুলা, শিশু, সংবাদ ও তথ্যচিত্র এবং ভ্লগ। এ গুলোর প্রতিটির মধ্যে আপনি একাধিক উপ-বিভাগ পাবেন। যেমন, ডকুমেন্টারিগুলোর মধ্যে আবার ঐতিহাসিক তথ্যচিত্র, ঐতিহাসিক ধারণা, রাজনীতি, যুদ্ধের ডকুমেন্টারিসহ আরও অনেক ধরনের কনটেন্ট।

এখানেই শেষ নয়। প্রতিটি উপ-বিভাগের মধ্যেও আবার বিষয়টি সম্পর্কে বিভিন্ন ভিডিও সম্বলিত একটি প্লেলিস্ট রয়েছে, যা অটোপ্লে হতে থাকবে। প্লেলিস্ট শেষ হয়ে গেলে, এটি সেই সাব-বিভাগের মধ্যে বিদ্যমান পরবর্তী প্লেলিস্টে চলে যাবে।

সাটল টিভি

রেডিট-এ প্রতিদিন হাজার হাজার ইউটিউব ভিডিও শেয়ার করা হয় এবং সাটোল টিভি আপনাকে ট্রেন্ডিং বা ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলো খুঁজে পেতে সাহায্য করে। অনলাইন কমিউনিটিগুলোতে সমসাময়িক সবচেয়ে জনপ্রিয় ইউটিউব ভিডিওগুলো দেখার জন্য এই ওয়েবসাইটটি বেশ ভালো অভিজ্ঞতা দেয়।

ডিফল্টভাবে প্লেয়ারটি ট্রেন্ডিং ভিডিওগুলো লঞ্চ করে, যেখানে বাম সাইডবারে প্লেলিস্ট থাকে এবং ডানদিকে ভিডিওগুলো প্রদর্শিত হয়। যেখানে পরবর্তী ভিডিও চালুর অপশন অটোপ্লে’র মাধ্যমে সেট করা থাকে। আপনি চাইলে বিভিন্ন বিভাগ যেমন: কিউট, ডকুমেন্টারি, ফানি, গেমিং, সঙ্গীত, সংবাদ, খেলাধুলা এবং সৌন্দর্য, ইত্যাদি বাছাই করে নিতে পারেন।

আপনি যদি চলমান কোনো ভিডিও পছন্দ করেন, তাহলে আপনি সাইডবারের প্লেলিস্ট থেকে সেটির মতো ভিডিওগুলোতেও স্যুইচ করতে পারেন।

শর্ট অব দ্য উইক

ইউটিউবে বিনামূল্যের সেরা সব শর্ট ফিল্মগুলো দেখতে ভিজিট করতে পারেন এই সাইটে। ইউটিউব অথবা ভিমিও-এর মতো অন্যান্য পরিষেবায় শেয়ার করা সেরা শর্ট ফিল্ম এবং ছোট ডকুমেন্টারি সংগ্রহের ক্ষেত্রে এই কেউ ওয়েবসাইটটির ধারেকাছেও নেই।

শর্ট অব দ্য উইক ২০০৭ সাল থেকে ৫টি প্রধান ‘চ্যানেল’ বা বিভাগে (ডকুমেন্টারি, অ্যানিমেশন, সাই-ফাই, কমেডি এবং নাটক) হাজারও শর্ট ফিল্ম সংগ্রহ করেছে। আপনি চাইলে বিষয়, স্টাইল, সংগ্রহ, দেশ বা কোন ঘরানার ভিডিও দেখতে চান, সে অনুযায়ী ফিল্টার করতে পারেন।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ