সমালোচিত বক্তব্যের জেরেই সফরে নেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী?

আরো পড়ুন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে নয়াদিল্লীর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে ভারতে পৌঁছেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে এ সফরে থাকার কথা ছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের। কিন্তু শেষ মুহূর্তে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ভারত সফরে যাওয়া থেকে বিরত থাকেন তিনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অসুস্থতার কথা জানালেও কি ধরনের অসুস্থতা কিংবা কি বিষয়, সে সম্পর্ক বিস্তারিত কোনো তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। যদিও প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে তিনি ভারত সফর করছেন।

ধারণা করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতকে নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যসহ বেশকিছু বক্তব্যের জেরেই ভারত সফরে নেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

ভারতকে নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারতও বিব্রত হয়েছিল এবং এক ধরনের অস্বস্তিতে পড়েছিল। বিশেষ করে, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর শীর্ষ বৈঠকের আগে এই বক্তব্য কর্মকর্তাদের অস্বস্তিতে ফেলে দেয়। এরই জেরে আজ প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাদ গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কূটনৈতিকরা সূত্রগুলো বলছে, ভারতের এবারের সফরটি নানা কারণেই গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলোই শুধু নয়, বিশ্বজুড়ে যে স্নায়ুযুদ্ধে শুরু হয়েছে এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে নতুন মেরুকরণ ইত্যাদি বিষয় বাংলাদেশ ভারতের সাথে একটি কৌশলগত অবস্থান নিবে। সেরকম বিবেচনা থেকেই হয়তো পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এই সফর থেকে বাদ দেয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের ব্যাপারে ভারতের একটি নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। রিভা গাঙ্গুলি যখন এসেছিলেন তখন তার সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বন্দ্বের খবরও শোনা গিয়েছিল। সবকিছু মিলিয়ে ভারতের কাছে তিনি প্রিয়ভাজন ব্যক্তি নয়। তাই এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে তাকে বাধ দেয়া হয়েছে বলেও ধারণা করছেন অনেকেই।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, গতকাল রবিবার গভীর রাতে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত না যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বিমানের বিশেষ ফ্লাইট ঢাকা ছাড়ার আগে দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো এ সম্পর্কে অবগত হয়।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) চট্টগ্রামে জন্মাষ্টমী উৎসবের অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি ভারতে গিয়ে বলেছি, শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে হবে।

তার একটি বিতর্কিত বক্তব্যের পর এই নিয়ে রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ