বাগেরহাটে স্কুলছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু

আরো পড়ুন

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রী উপমা মিস্ত্রী (১৬) বখাটেদের অতিষ্ঠে অবশেষে বিষপানে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। অসময়ে ঝড়ে গেলো স্কুলছাত্রী উপমা। পিতা মাতার কাছে মেয়ের স্বপ্নগুলো এখন শুধু স্মৃতিময় হয়ে কাঁদিয়ে বেড়াচ্ছে।

জানা গেছে, উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের বিষখালী গ্রামের কৃষক সুব্রত মিস্ত্রীর বড় কণ্যা বিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী উপমা। গত শুত্রুবার বিকেলে ঘরে থাকা কীটনাশক পান করে ঢলে পড়লে চিকিৎসার জন্য প্রথমে পার্শ্ববর্তী কচুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে তার অবস্থার অবনতি হলে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে নেয়ার পথিমধ্যে ওই স্কুল ছাত্রী মৃত্যুবরণ করে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছে সহপাঠিরা। এলাকাবাসী এ মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।

নিহত স্কুল ছাত্রীর পিতা সুব্রত মিস্ত্রী, মা সিমা রানী মিস্ত্রী কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন, ওরা আমার মেয়েকে বাঁচতে দিল না। ফেক আইডি থেকে এলাকার বখাটে একটি চক্র কুরুচিপূর্ণ বার্তা লিখে ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে আমার মেয়ে উপমাকে কয়েকদিন ধরে হুমকি-ধামকি দেয়। এতে আমার মেয়ে ১০/১৫ দিন ধরে খাবার খাওয়া ছেড়ে দিয়ে মানুষিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে। ঘরে থাকা কীটনাশক পান করে চলে গেলো আমাদের ছেড়ে। কোথাও কোনো অভিযোগ মামলা না করার জন্য এখনো আমার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে প্রভাবশালী ওই চক্রটির লোকজন। আমাদের মত আর কোন মা-বাবার বুক এ রকম যেনো খালি না হয়।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিধান চন্দ্র গাইন বলেন, উপমা আমার বিদ্যালয়ের একজন ভাল ছাত্রী ছিল। বিভিন্ন সময় যে তাকে উক্তাক্ত করা হতো অভিভাবকরা ইতোপূর্বে কখনও আমাদেরকে অবহিত করেনি।

এ সর্ম্পকে বনগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান রিপন চন্দ্র দাস বলেন, স্কুল ছাত্রী উপমার মৃত্যু খুবই মর্মান্তিক। ঘটনাটির সঠিক তদন্তের মাধ্যমে বিচার হওয়া প্রয়োজন।

থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুর রহমান বলেন, স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় মরদেহ উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ময়না তদন্ত করা হয়েছে। একটি অপমৃত্যু মামলাও দায়ের হয়েছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে রহস্যজনক মৃত্যুর অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে মামলা নেয়া হবে।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ