ডেস্ক রিপোর্ট: নতুন একটি মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার জন্য পরিবারের কাছে বায়না ধরেছিলেন কিশোর বয়সী হানিফ পালোয়ান। পরিবারের পক্ষ থেকে বাইক কেনার টাকাও জোগাড় হচ্ছিল। কিন্তু কিনতে দেরি হওয়ায় অভিমান করে ফেসবুক লাইভে এসে ফাঁসিতে রশিতে ঝুলে আত্মহত্যা করে ১৬ বছর বয়সী ওই কিশোর।
বুধবার (২০ জুলাই) রাত ১০টার দিকে জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌরসভার উপজেলা চত্বর কলোনিতে এ ঘটনা ঘটে।
হানিফ পালোয়ান উপজেলার সাতপোয়া ইউনিয়নের চর সরিষাবাড়ী গ্রামের সাহের পালোয়ানের ছেলে। সরিষাবাড়ী রিয়াজ উদ্দিন তালুকদার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল তার।
সরিষাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুর্শেদ মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
লাইভে আত্মহত্যার আগে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন হানিফ। সেখানে ওই কিশোর লিখেছে- ‘আমার মরার জন্য কেউ দায়ী না। আমার একটি বাইক খুব কিনতে ইচ্ছে হইছিল, কিন্তু আমার বাবা-মা আমারে বাইক কিনে দেয় নাই। তাই আমি নিজ ইচ্ছায় এই দুনিয়া থেকে চলে যাইতেছি।’ বেঁচে থাকলে বাইক নিয়া দেখা হবে। গুড বাই।’
হানিফ পালোয়ানের চাচা শাহীনুর রহমান বলেন- ছোটবেলা থেকেই মোটরসাইকেলের প্রতি আগ্রহ ছিলো হানিফের। পুরাতন একটি মোটরসাইকেল পরিবারের পক্ষ থেকে কিনেও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার শখ ছিলো নতুন একটি মোটরসাইকেল ক্রয়ের। টাকাও জোগাড়ের চেষ্টা চলছিল। কিন্তু বাইক কিনতে দেরি হওয়ায় আবেগের বশে রাত ১০টার দিকে ফেসবুক লাইভে এসে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করে সে। বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হানিফকে মৃত ঘোষণা করেন।
সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. দেবাশীষ রাজবংশী বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই ছেলেটি মারা যায়। বৃহস্পতিবার সকাল নয়টায় জানাজা শেষে হানিফকে দাফন করা হবে।
জাগো/এমআই

