শাহ জামাল শিশির, ঝিকরগাছা : মহুরির দশ পৃষ্ঠার দলিল লেখা শেষ, রেজিষ্ট্রেশনের সরকারি ফিসও ব্যাংকে জমা দেয়া হয়ে গেছে। দশ পৃষ্ঠার মধ্যে আট পৃষ্ঠায় জমির মালিক সাক্ষর করেছেন।
বাকি দুই পৃষ্ঠা সাক্ষরের পরে সাব রেজিস্টারের সামনে হাজির করা হবে৷ জমির মালিক দাবি করলেন জমির সমুদয় টাকা ৪৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা হাতে পাওয়ার পরেই তিনি বাকি দুই পৃষ্ঠায় সাক্ষর করবেন। চুক্তি অনুযায়ী সমস্ত টাকা পরিশোধের পরে জমির মালিক রেজিস্ট্রি না করেই চম্পট দিয়েছেন৷ ঘটনাটি ঘটেছে যশোরের ঝিকরগাছায়।

এই ঘটনায় উপজেলার জাফরনগর গ্রামের ভুক্তভোগী মোঃ সেলিম (৪৫) বাদি হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলায় প্রধান আসামী করা হয়েছে কৃষ্ণনগর গ্রামের বনফুল আবাসিক এলাকার শুকুর আলীকে৷ এছাড়া তার স্ত্রী রাবেয়া খাতুন ও শাশুড়ি ফতেমা খাতুনকেও আসামী করা হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ সকল আসামীদের গ্রেফতার করেছে। পরবর্তীতে তদন্তের মাধ্যমে মূল আসামীর দ্বিতীয় স্ত্রী নাজমা খাতুন জড়িত থাকায় তাকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

প্রধান আসামী শুকুর আলীকে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। এছাড়া প্রায় ৩৩ লাখ টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুব্রত কুমার কুন্ডু।

তিনি জানান, কৃষ্ণনগরে চার শতক জমি বিক্রির জন্য সাক্ষির উপস্থিতিতে আসামী শুকুর আলীর সাথে ৪৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকায় চুক্তি হয়। বায়না বাবদ ১০ লক্ষ টাকা দেয়া হয়। পরবর্তীতে জমি রেজিস্ট্রির দিন বাকি ৩৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঝিকরগাছার সিটি ব্যাংক থেকে দেয়ার পরে আসামী জমি রেজিস্ট্রি না করেই টাকা নিয়ে চম্পট দেয়। ৬ জুলাই ভুক্তভোগী সেলিম থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরেরদিন ৭ জুলাই তিনজনের নামে মামলা লিপিবদ্ধ হয়।

এসআই সুব্রত বলেন, ব্যাংকের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। তদন্তে আসামীর স্ত্রী ও শাশুড়ির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়৷ পরবর্তীতে আসামীর বাড়ি সার্চ করে তার শাশুড়ির দেয়া তথ্যমতে খড়গাদা থেকে নগদ আট লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়।

এসময় আসামী ফাতেমা খাতুন ও রাবেয়া খাতুনকে গ্রেফতার করা হয়৷ বিজ্ঞ আদালতে সে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

পরবর্তীতে ১০ জুলাই তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে সাতক্ষীরা সদর থানার শিকড়ী গ্রাম থেকে মূল আসামী শুকুর আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার অধিকতর তদন্তে তার দ্বিতীয় স্ত্রী নাজমা খাতুনের নাম উঠে আসে। এসময় তাকেও গ্রেফতার করা হয়। সেও বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

এসময় জনতা ব্যাংকের সাতক্ষীরা আগরদারী শাখার ০১০০২৩০৭০১৫৩৩ হিসাব নম্বর থেকে লোপাটের ২৫ লাখ টাকা একাউন্ট ফ্রিজিং এর মাধ্যমে জব্দ করা হয়। মেসার্স বাবুনিলা ডেইরী ফার্ম নামের এই একাউন্টে টাকাগুলো জমা করেছিল আসামী।

এসআই সুব্রত কুমার কুন্ডু জানান, দ্রুততম সময়ে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ও ব্যাপক তদন্ত করে আসামীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ৩৩ লাখ টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি টাকা উদ্ধারের জন্য এবং ঘটনায় অন্য কেও জড়িত আছে কিনা জানার জন্য বিজ্ঞ আদালত আসামী শুকুর আলীর দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।