পদ্মা সেতুর উদ্বোধনস্থলে শেষ মুহূর্তের কিছু প্রস্তুতির কাজ চলছে। এর মধ্যে সেতুতে অল্প কিছু স্থানে অ্যালুমিনিয়াম রেলিং বসানো এবং সেতুর বাইরে মঞ্চ ও প্যান্ডেল তৈরির কাজ চলছে। অন্যদিকে সেতু কর্তৃপক্ষ এখন অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে।
সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও সুধী সমাবেশের জন্য সাড়ে তিন হাজার আমন্ত্রণপত্র তৈরি করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে আমন্ত্রণপত্র বার্তাবাহকের মাধ্যমে পৌঁছে দেয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যে সংসদ সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দফতরে আমন্ত্রণপত্র দেয়া হয়েছে।
সেতু বিভাগ সূত্র জানায়, প্রত্যেক ব্যক্তির বাসায় বা অফিসে গিয়ে হয়তো আমন্ত্রণ দেয়া সম্ভব নয়। এ জন্য একসঙ্গে অনেকের আমন্ত্রণ কার্ড পাঠানো হচ্ছে। যেমন, সংসদ সদস্যদের প্রত্যেকের জন্য কার্ড দেয়া হয়েছে, তবে হাতে হাতে নয়। সবার কার্ড সংসদ সচিবালয়ে দেয়া হয়েছে। সংসদ সদস্যদের হাতে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব সংসদ সচিবালয়ের। একইভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সবার কার্ড মুখ্য সচিবের দফতরে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর কার্ড হয়তো দলীয় প্রধান কিংবা দলের কার্যালয়ে পৌঁছে দেয়া হবে। বিদেশি অতিথি ও কূটনীতিকদের আমন্ত্রণ জানানোর কাজটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
২৫ জুন পদ্মা সেতু চালু হচ্ছে। ওই দিন সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাওয়ায় উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করবেন এবং সুধী সমাবেশে যোগ দেবেন। এরপর তিনি টোল দিয়ে সেতু পার হবেন। তিনি জাজিরায় আবার ফলক উন্মোচন করবেন। এরপর বিকেলে মাদারীপুরের শিবচরে জনসভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টোল প্লাজায় সফটওয়্যার বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক কাজ করছে কি না, তাও পরীক্ষা করা হয়েছে। এখন দুই প্রান্তের টোল প্লাজা সাজানোর কাজ চলছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিন সাধারণ যানবাহন চলাচল করবে না। পরদিন টোল দিয়ে যানবাহন চলতে পারবে।
সেতু বিভাগ সূত্র বলছে, উৎসুক মানুষকে উদ্বোধনের পর সেতুতে কিছু সময় ঘুরতে দেওয়া হতে পারে। তবে সেতুর এপার-ওপার হওয়ার সুযোগ দেয়া হবে না। মাওয়ার দিকে দুটি বা তিনটি স্প্যান পর্যন্ত এবং একইভাবে জাজিরায় দু-তিনটি স্প্যান পর্যন্ত মানুষকে যেতে দেয়ার প্রাথমিক চিন্তা আছে। অর্থাৎ দুই প্রান্তের মানুষকে আধা কিলোমিটার বা এর কম পর্যন্ত যেতে দেয়া হবে। সেতুর বাকি অংশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটকে দেবে মানুষকে।
সেতু বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, সেতুর এক টোল প্লাজা থেকে আরেক টোল প্লাজা পর্যন্ত দূরত্ব ৯ কিলোমিটারের বেশি। অনেকের পক্ষে হেঁটে পুরো সেতু পাড়ি দেয়াও কঠিন। আবার ফিরে আসতে হলে ১৮ কিলোমিটারের বেশি হাঁটতে হবে। গাড়ি চলাচল বন্ধ বলে এটা প্রায় অসম্ভব। এ জন্য অল্প দূরত্ব পর্যন্ত খোলা রাখার পক্ষে মত বেশি।

