দেশে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে আর কয়েকদিন পরেই। কোটি মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হচ্ছে আগামী ২৫ জুন। এ সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে রচিত হয়েছে এগিয়ে যাওয়ার মহাসড়ক। নানা চ্যালেঞ্জ আর বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটারের এ সেতু দেশের অর্থনীতিতে যুগান্তকারী প্রভাব ফেলবে।
পদ্মা সেতু দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কৃষি, শিল্প, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক উন্নয়ন ঘটাবে। তবে বেশি সুবিধা পাবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রায় ৬ কোটি মানুষ। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হবে এসব জেলা।
দেশের অর্থনীতিতে যশোরের গুরুত্ব অনেক। দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলের অবস্থান এখানে। বছরের প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয় এই বন্দর থেকে। দেশে ফুলের মোট চাহিদার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পূরণ করেন ঝিকরগাছা ও শার্শার ফুল চাষিরা। এ জেলায় উৎপাদিত বিভিন্ন কৃষিপণ্য, মাছ, সবজি দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ হয়। ঢাকা থেকে সড়ক পথে এ জেলার দূরত্ব প্রায় ২৭০ কিলোমিটার। পদ্মা সেতু চালু হলে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরত্ব কমবে। এতে যাতায়াতে সময় তো কমবেই, পাশাপাশি আর্থিকভাবেও লাভবান হবে জেলার ব্যবসায়ী, কৃষক, খামারিসহ সবাই।
নারী উদ্যোক্তা তনুজা রহমান মায়া বলেন, আসলে যে কোনো কাজ করতে গেলে তার সহায়ক জিনিসগুলো দরকার আমরা এখানে বসে সেগুলো পাচ্ছিলাম না। দুই, তিন মাধ্যম হয়ে আমাদের সেগুলো নিতে হতো। এখন পদ্মা সেতুর কারণে আমরা সরাসরি কাঙ্ক্ষিত পণ্য পাব।
যশোর জেলা হ্যাচারি মালিক সমিতির সভাপতি ফিরোজ খান বলেন, পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হলে আমাদের মৎস্য সেক্টরে চার্মিং অবস্থা শুরু হবে। আমরা যারা দীর্ঘদিন ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি তারা ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারব।
গদখালীর ফুল চাষি ও বাংলাদেশ ফুল চাষি কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, গদখালী অঞ্চলের কৃষ্ণচন্দ্রপুর, হাড়িয়া, চাঁদপুর, নারাঙ্গালী ও কামার আলী গ্রামে কয়েকশ হেক্টর জমিতে গোলাপ, গাঁদা, রজনীগন্ধা, জারবেরা, গ্লাডিওলাস, পানিসারাসহ ২৫/৩০ জাতের ফুল চাষ হয়। সারা দেশে এখানকার ফুলের চাহিদা থাকলেও পরিবহন ব্যবস্থার সমস্যার কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই। অনেক সময় ঘটে (দৌলতদিয়া) যানজটের কারণে ফুল নষ্ট হয়ে যায়। পদ্মা সেতু হলে এই সমস্যা থাকবে না। খুব কম সময়ে আমরা ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় ফুল পাঠাতে পারব।
যশোর চেম্বার অফ কমার্সের সাবেক সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, আমরা স্বপ্নের পদ্মা সেতু পার হয়ে দ্রুত ঢাকায় পৌঁছতে পারব। আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতি হবে। সস্তায় শ্রমিক পাওয়ার কারণে এখানে পোশাক কারখানা গড়ে উঠবে। এখানকার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
নারী উদ্যোক্তা তনুজা রহমান মায়া বলেন, কোনো কাজ করতে গেলে তার সহায়ক যে জিনিসগুলো দরকার আমরা এখানে বসে সেগুলো পাচ্ছিলাম না। দুই, তিন মাধ্যম হয়ে আমাদের সেগুলো নিতে হতো। এখন পদ্মা সেতু চালু হলে আমরা সরাসরি কাঙ্ক্ষিত পণ্য পাব। এতে করে যারা নতুন নতুন উদ্যোগ নিতে যান তারা আরও আগ্রহী হবেন। জেলায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান বাড়বে। অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
যশোর প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন বলেন, আমাদের এখানে যে ফল হয়, ফসল হয় তার ন্যায্যমূল্য কৃষক পায় না। সবজি বা অন্যান্য কাঁচামাল ঢাকায় নিতে যে খরচ হয়। সে তুলনায় দাম পাওয়া যায় না। এখন পদ্মা পদ্মা সেতু হলে কৃষক তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাবে। ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে আমাদের সময় কম লাগবে। বেনাপোল স্থলবন্দরের সক্ষমতা বাড়বে। সবমিলিয়ে জেলাবাসীর আর্থিক সচ্ছলতা বাড়বে।
যশোর জেলা হ্যাচারি মালিক সমিতির সভাপতি ফিরোজ খান বলেন, পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হলে আমাদের মৎস্য সেক্টরে চার্মিং অবস্থা শুরু হবে। আমরা যারা দীর্ঘদিন ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি তারা ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারব। যশোরে মৎস খাতে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন হবে। এ খাতের আরো প্রসার হবে বলে আমি আশা করছি।
গদখালীর ফুল চাষী ও বাংলাদেশ ফুল চাষী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, গদখালী অঞ্চলের কৃষ্ণচন্দ্রপুর, হাড়িয়া, চাঁদপুর, নারাঙ্গালী ও কামার আলী গ্রামে কয়েকশ হেক্টর জমিতে গোলাপ, গাঁদা, রজনীগন্ধা, জারবেরা, গ্লাডিওলাস, পানিসারাসহ ২৫/৩০ জাতের ফুল চাষ হয়। সারা দেশে এখানকার ফুলের চাহিদা থাকলেও পরিবহন ব্যবস্থার সমস্যার কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই। অনেক সময় ঘটে (দৌলতদিয়া) যানজটের কারণে ফুল নষ্ট হয়ে যায়। পদ্মা সেতু হলে এই সমস্যা থাকবে না। খুব কম সময়ে আমরা ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় ফুল পাঠাতে পারব।
ফুল চাষি আজিজুল সরদার বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলে ক্রেতা বেশি আসবে। আমরা ফুলের দাম বেশি পাব। এখন যেখানে প্রতি পিস ফুল ৫ টাকা বিক্রি হয়, সেতু চালু হলে সেখানে আমরা হয়তো ৭ টাকা বিক্রি করতে পারব।
ফুল বাগানের শ্রমিক নার্গিস বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলে আমাদের সবার জন্যে ভালো হবে। মালিক, চাষি, শ্রমিক সবাই সুবিধা পাবে। মালিক যদি বেচাকেনা বেশি করে তাহলে শ্রমিকদেরও উপকার। পদ্মা সেতুর কারণে খুব দ্রুত ফুল পাঠানো যাবে, এতে মালিক দাম ভালো পাবে। আমাদের মুজরিও বাড়বে। আমাদের সবারই উপকার হবে।
আরেক শ্রমিক বাবু বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলে আগে লাগতো ১০ ঘণ্টা এখন ৪ ঘণ্টায় ফুল যাবে। আগে পেতাম দশ টাকা এখন দুই থেকে তিন টাকা বাড়তি পাব। এ সেতুতে আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে বলে আশা করছি।
বেনাপোল স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী আহসান হাবীব বলেন, এই বন্দর থেকে বছরে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়। প্রায় সাতশ ট্রাক যাওয়া-আসা করে। এছাড়া প্রায় দশ হাজার মানুষ যাওয়া-আসা করে। পদ্মা সেতু চালু হলে এই বন্দরের সক্ষমতা আরো বাড়বে। অল্প সময়ের মধ্যে মানুষ ভারতে যেতে পারবে, অন্যদিকে ভারত থেকেও আমাদের দেশে অনেক মানুষ আসবে। এতে রাজস্ব বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এলাকার মানুষেরও উন্নয়ন হবে।

