ঝিকরগাছায় প্রধান শিক্ষকের বেত্রাঘাতে এসএসসি পরীক্ষার্থী হাসপাতালে

আরো পড়ুন

শাহ জামাল শিশির, ঝিকরগাছাঃ শ্রেণিকক্ষ থেকে বাইরে বের হওয়ায় প্রধান শিক্ষক বেত্রাঘাত করে গুরুতর আহত করেছেন এসএসসি পরীক্ষার্থীকে। আহত ওই শিক্ষার্থী এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের নাম মোস্তাফিজুর রহমান আজাদ।

সোমবার (২৩ মে) ঘটনাটি ঘটেছে যশোরের ঝিকরগাছা সরকারি এমএল মডেল হাইস্কুলে। আহত ওই শিক্ষার্থীর নাম মেহেদী হাসান নুর। সে উপজেলার পদ্মপুকুর গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে।

বেত্রাঘাতে আহত মেহেদীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ওইদিন সন্ধ্যায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালের বেডে শুয়ে মেহেদী জাগো বাংলাদেশকে জানায়, কিছুদিন পরে তাদের এসএসসি পরীক্ষা। ক্লাস না হওয়াতে প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে ছুটি নেয়ার জন্য বন্ধুদের নিয়ে তারা শ্রেনিকক্ষকের বাইরে বের হয়েছিল।

তাদের বাইরে দেখে প্রধান শিক্ষক সহকারী দিয়ে তাদের সবাইকে অফিসে ডেকে নেয়। এরপর তাকে বেত দিয়ে হাতে, পায়ে ও পশ্চাৎদেশে আঘাত করে। এতে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। বাসায় ফেরার পরে ব্যথায় তার জ্বর চলে আসে এবং অজ্ঞান হয়ে যায়। এরপর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মেহেদি আরো জানায়, একই সময়ে তার আরেক বন্ধু অপুকে পা চেপে ধরে মোটা বেত দিয়ে পেটানো হয়। আরেক পরীক্ষার্থী কাউরিয়া গ্রামের তাসফির মার খেয়ে অফিসেই অজ্ঞান হয়ে যায়। এছাড়া ওই সময়ে দুই ছাত্রীসহ আরো নয় দশজনকে বেত্রাঘাত করেন প্রধান শিক্ষক।

বেত্রাঘাতে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া শিক্ষার্থী তাসফির জানান, শ্রেনিকক্ষ থেকে বাইরে বের হওয়ায় পিওন দিয়ে প্রধান শিক্ষক তাদের অফিসে ডেকে নেন। বাইরে বের হওয়া যাবেনা বলেই তিনি তাকে পেটাতে থাকেন৷ মার খেয়ে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যায়। পরে প্রধান শিক্ষক তার মাথায় তেল পানি দিয়ে দেন, তাকে নাস্তা খেতে দেন।

এবিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান আজাদ বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি জানান, হাসপাতালে ভর্তি ওই শিক্ষার্থীর আগে থেকেই মাথায় সমস্যা, শরীর দূর্বল৷ তাকে কোন মারধোর করা হয়নি।

অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মারার ব্যাপারে তিনি জানান, শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের বাইরে ছিল তাই কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। কাওকেই তেমনভাবে মারা হয়নি। কাওকে হয়তো বকাঝকা করেছি আবার কাওকে একটা দুইটা বাড়ি দিয়েছি।

মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিল্লুর রশিদ জানান, ছেলেটি মার খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়নি। তার শারিরীক অন্য সমস্যা ছিল।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ