যশোরের কেশবপুরে গৃহবধূ মেরিনা খাতুনের হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (১৯ মে) দুপুরে উপজেলার গড়ভাঙ্গা বাজারে এলাকাবাসীর ব্যানারে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই মানববন্ধনে মেরিনার পরিবারছাড়াও এলাকাবাসী এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন। গেলো ঈদুল ফিতরের দিন কেশবপুর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে স্বামীর ছুরিকাঘাতে মেরিনা খাতুন আহত হলে গত ১২ মে যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মারা যাওয়ার পরের দিন ১৩ মে গৃহবধূ পিতা উপজেলার গড়ভাঙ্গা গ্রামের আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে ঘাতক স্বামী রিপন হোসেন, গৃহবধূর শুশুর শাশুড়িসহ ৫ জনকে আসামি করে কেশবপুর থানায় মামলা করেন। মামলার সকল আসামিরা পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মানববন্ধনে মেরিনার বাবা আবুল কালাম আজাদ বলেন, দুই বছর আগে করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে মেরিনা ও রিপন হোসেন সম্পর্ক করে বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর থেকে রিপন মেরিনাকে কারণে-অকারণে মারধর করতেন। পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই আমরা। গত ৩ মে ঈদুল ফিতরের দিন দুপুরের দিকে রিপন নেশা করে বাড়িতে ফিরে মেরিনার সাথে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে মেরিনাকে ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে চারটি আঘাত করে। এতে মেরিনা গুরুতর আহত হলে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেরিনার মৃত্যু হয়।
আহাজারি করতে করতে মেরিনার মা নাছিমা বেগম বলেন, যৌতুকের জন্য প্রায়ই রিপন আমার মেয়েকে মারপিট করতো। মেরিনা মারা যাওয়ার আগে হাসপাতালের বিছানায় আমাকে বলে গেছে, শুশুর শাশুড়ির উপস্থিতিতে আমাকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। আমার বুক যারা খালি করেছে সেই হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।
মানববন্ধনে বক্তরা অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের এতোদিন হলেও পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি; বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। মেয়েটির পরিবার গরীব হওয়াতে তারা কি তাদের মেয়ের হত্যার বিচার পাবে না। মেরিনার যৌতুকের জন্য নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে এ দেশে নারী নির্যাতন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম মুকুল, সমাজ উন্নয়ন কর্মী সনাৎ বসু হরী, কেশবপুর উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এস আর সাঈদ, সম্পাদক জয়দেব চক্রবর্ত্তী প্রমুখ।
এই বিষয়ে কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বোরহান উদ্দিন জানান, ঘাতক স্বামী রিপন গত ৩ মে মেরিনাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে আহত করেছিল। এরপর মেরিনা চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যায়। পরের দিন গৃহবধূর পিতার স্বামী-শুশুর-শাশুড়িসহ ৫ জনের নামে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত প্রক্রিয়াধীন। এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি।

