বগুড়ায় মাদক সম্রাজ্ঞী ফাইমার মতো জন্ম নিয়েছে হাজারোফাইমা

আরো পড়ুন

বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়া শহরের হাড্ডিপট্টি এলাকায় অবাধে চলছে বিভিন্ন ধরনের মাদকের রমরমা ব্যবসা। এতে করে নষ্ট হচ্ছে এলাকার ভাবমূর্তি। এলাকায় সাবেক মাদক সম্রাজ্ঞী ফাইমা দীর্ঘদিন যাবৎ মাদক ব্যবসা থেকে বিরত থাকলেও যেন ফাইমার গলিতে জন্ম হয়েছে হাজারো ফাইমার এমনই অভিযোগ তুলেছেন সচেতন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাড্ডিপট্টি এলাকার সাবেক মাদক সম্রাজ্ঞী ফাইমা দীর্ঘদিন যাবৎ মাদকের ব্যবসা থেকে বিরত থাকলেও ফাইমার গলিতে যেন জন্ম হয়েছে একাধিক ফাইমার। তারা প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে নানান ধরনের নতুন নতুন কলাকৌশল অবলম্বন করে অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে লোপেন্টা,ট্যাপেন্টা,ট্যাপেন্টাডল, গাঁজা ও মরণনেশা ইয়াবার রমরমা ব্যবসা। অনেকে মনে করেন এর পিছনে ফাইমার ইন্ধন রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, মাদক ব্যবসায়ীরা এলাকার ছোট ছোট পথ শিশুদের ব্যবহার করে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছে। কিছু কিছু মাদকসেবী মাদক সংগ্রহ করে এলাকায় বটতলা নামক স্থানে ও শামীমের পুকুরের দোকান ঘরে পিছনে বসে দিনে ও রাতে অবাধে মাদক সেবন করে যাচ্ছে। এতে এলাকার লোকজন মহিলা থেকে শুরু করে সবার চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। যেন অসহায় এলাকাবাসীর সমস্যা দেখার কেউ নেই। পুরো রাজত্বটাই তাদের দখলে।

জানা যায় এই মাদক ব্যবসার পিছনে জামিনে বেড়িয়ে আসা স্থানীয় সাবেক যুবলীগ নেতা আলোচিত মা মেয়েকে ন্যাড়া ও ধর্ষণ মামলার আসামী তুফান সরকার মদদ দিয়ে যাচ্ছে। সে স্থানীয় কাউন্সিলর মতিন সরকারের ছোট ভাই। এ বিষয়ে তুফান সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানাম মাদক ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সময় এলাকার বিভিন্ন নেতাদের নাম ভাঙিয়ে ব্যবসায় পরিচালনা করলেও কেউই এ বিষয়ে অবগত নন। এবং অতীতে তারা মাদক ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করতে বারণ করায় তাদের সম্মান ক্ষুন্ন করার জন্য ব্যবসায়ীরা তাদের নাম ব্যবহার করছে বলে মনে করছেন তারা।

৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: আব্দুল মতিন সরকার এ বিষয়ে বলেন, আমার ভাই বা পারিবারের কেউ এর সাথে জড়িত নয়। আমার ৪নং ওয়ার্ডে মাদকের বিষয়ে জিরো টলারেন্স জারি করেছি। বর্তমানে ৪নং ওয়ার্ডে মাদকের ব্যবসা নেই বললেই চলে। তবুও কোন ব্যক্তি যদি অতি গোপনে মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করে থাকেন তবে তাদের বিরুদ্ধে আমি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করবো ইনশাআল্লাহ।

বগুড়া সদর ফাঁড়ির এসআই মো:তাজমিলুর রহমান বলেন, বর্তমানের বগুড়া শহরে মাদকের ব্যবসা তুলনামূলকভাবে আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে।

শহরের হাড্ডিপট্টি এলাকা থেকে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমরা পাইনাই। তবে কেউ যদি অতি গোপনে মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করে থাকে তবে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আমরা তাদের থেকে নির্মূল করে ফেলব। বগুড়া শহরের সচেতন মহল মনে করেন, মাদক আমাদের সমাজের সবচেয়ে জটিল ও কঠিন একটি ব্যাধি।

স্থানীয় এলাকাবাসীকে এই ব্যপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা জানান মাদক ব্যবসায়ীরা প্রভাবশালী বলে কেউ মুখ খোলার সাহস পাননা। তবে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মাদক ব্যবসায়ীদের কারবার কমে আসলেও কিছু মাদক ব্যবসায়ী নতুন কলাকৌশল অবলম্বন এর মাধ্যমে আবার মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। প্রশাসনের সঠিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে আমরা সমাজের সুস্থ স্বাভাবিক ভাবমূর্তি ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা করছি।

মুস্তাকিম বিল্লাহ/এমআই

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ