জাগো বাংলাদেশ ডেস্ক: যশোর জেলার চৌগাছা থানার হাকিমপুর ইউনিয়ানের বাসন্দিা আশানুর রহমান (৪২)। দুই সন্তানের জনক তিনি। সংসারে সচ্ছলতার আশায় ধার-দেনা করে মালয়েশিয়া যান সাড়ে চার বছর আগে। তার সে সাধ আর পূরণ হলো না। ধার-দেনা শোধের আগেই দুনিয়া থেকে চিরবিদায় নিলেন তিনি। ব্রেনস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মালয়েশিয়ার একটি শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ জানুয়ারি মারা যান তিনি। বর্তমানে তার লাশ রয়েছে মালয়েশিয়াই। হাইকমিশনের মাধ্যমে কবে নাগাদ লাশ বাড়িতে পৌঁছাবে সেটাও জানেন না পরিবারের সদস্যরা।
আশানুর যশোরের চৌগাছার হাকিমপুর ইউনিয়নের তজবীজপুর গ্রামের মৃত গ্রাম ডাক্তার আব্দুল মালেকের ছেলে। আশানুরের মৃত্যুর ৪৫ দিন আগে তার বাবাও হঠাৎ স্ট্রোকে মারা গেছেন। মাত্র দেড় মাসের মধ্যে বাবা-ছেলেকে হারিয়ে পরিবারটিতে চলছে শোকের মাতম।
আশানুরের মামাতো ভাই লিউন মোবাইলে জানান, প্রায় সাড়ে চার বছর আগে পরিবারে আরেকটু সচ্ছলতার আশায় ধার-দেনা করে স্টুডেন্ট ভিসায় দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়া পাড়ি জমান তিনি। তার একটি ছেলে ও একটি মেয়ে স্কুল শিক্ষার্থী। সেখানে গিয়ে বিভিন্ন মালিকের কাছে কাজ করতেন আশানুর।
লিউন বলেন, আমার ফুফাতো ভাই সেখানে যেয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন শহরে মালিকের কাছে কাজ করতেন। তবে সেখানে যাওয়ার বছর দুয়েক পরে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন। সেখানেই চিকিৎসা নিয়ে আবারো কাজ করছিলেন।
তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে তিনি ব্রেনস্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরে তার বাংলাদেশী সহকর্মীরা তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে ১৯ জানুয়ারি তিনি মারা যান। এখনো লাশটি সেই হাসপাতালেই রয়েছে।
লিউন আরো বলেন, ভাই যে ধার-দেনা করে মালয়েশিয়া গেছিলেন সেই ধার দেনা এখনো শোধ হয়নি। ভাই মারা যাওয়ার ৪৫ দিন আগে আমার ফুফাও (আশানুরের বাবা) হঠাৎ স্ট্রোক করে মারা গেছেন। হতে পারে বাবা মারা যাওয়ায় তিনি সংসার পরিচালনার বিষয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন।
তিনি বলেন, এখন ভাই মারা যাওয়ার সংবাদে ফুফু, ভাবী ও ভাইয়ের ছেলেমেয়েরা ভেঙে পড়েছেন।‘সংবাদ পেয়ে আমরা তার নাগরিকত্ব সনদপত্রসহ আনুসঙ্গিক কাগজপত্র এলাকার প্রবাসী একজনের কাছে পাঠিয়েছি মালয়েশিয়াস্থ হাইকমিশনে যোগাযোগ করার জন্য। তিনি সেখানে যোগাযোগ করেছেন। লাশটি কবে দেশে আসবে আজ সোমবার সে বিষয়ে তিনি সংবাদ দেবেন বলে জানিয়েছেন।’
হাকিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নাগরিকত্ব সনদপত্রসহ আনুসঙ্গিক কাগজপত্র স্বাক্ষর করে তাদের দিয়েছি। তারা মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে যোগাযোগ করছেন বলে আমাকে জানিয়েছেন।
জাগোবাংলাদেশ/এমআই

