ডেস্ক রিপোর্ট: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সিলেটের সাবেক কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি-প্রিজন) পার্থ গোপাল বণিককে পৃথক দুটি অভিযোগে আট বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রোববার (০৯ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম এ রায় দেন।
এদিন বেলা ১১টা ৩৩ মিনিটে রায় পড়া শুরু করেন বিচারক নাজমুল আলম। দুপুর ১টা ১৩ মিনিটের সময় আট বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকার অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করার কথাও জানিয়ে দেন আদালত। এছাড়া ৬৫ লাখ টাকা বাজেয়াপ্ত করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আসামি পক্ষের আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী জানান, তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
গত ২৭ ডিসেম্বর এ মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য এদিন ধার্য করা হয়। ওইদিন দুদকের পক্ষে মোশাররফ হোসেন কাজল ও আসামিপক্ষে সিনিয়র আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী যুক্তিতর্ক শেষ করেন।
বাসা থেকে ৮০ লাখ টাকা উদ্ধারের পর গ্রেফতার করা হয় পার্থকে। গত ১৬ নভেম্বর মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। চার্জশিটভুক্ত ১৪ সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত। এরপর ২৪ নভেম্বর মামলাটিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে দেওয়া বক্তব্যে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন ডিআইজি পার্থ।
গত বছরের ৫ জুন পার্থ গোপাল বণিককে জামিন দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ইকবাল হোসেন। এরপর ২ সেপ্টেম্বর পার্থ গোপাল বণিকের জামিন বাতিল করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তাকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়।
সেই আদেশ অনুযায়ী গত ১৯ সেপ্টেম্বর তিনি বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করলে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে পরবর্তী বিচারের জন্য মামলাটি এ আদালতে পাঠানো হয়।
২০১৯ সালের ২৮ জুলাই সকাল থেকে পার্থ গোপালকে জিজ্ঞাসাবাদের পর বিকেলে তার গ্রিন রোডের বাসায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর সহকারী পরিচালক মো. সালাউদ্দিন বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে ঘুষ ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। পরে তাকে সেই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
জাগোবাংলাদেশ/এমআই

