ভবদহে গো- খাদ্য সংকট

আরো পড়ুন

প্রতিনিধি: তীব্র গো-খাদ্য সংকটে ভবদহ বিল পাড়ের গ্রামগুলো প্রায় গোয়ালশূন্য হয়ে পড়েছে। মুষ্টিমেয় বাড়ির গোয়াল ঘরে কিছু গরু থাকলেও শীত মৌসুমে পানি না সরায় মানুষের পাশিপাশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ভবদহ বিল পাড়ের গবাদি পশুও। বিলের পানিতে নিমজ্জিত থাকায় ধানের আবাদ না হওয়ায় ভবদহ অঞ্চলে এগা-খাদ্য সংকট বলে এলাকাবাসি মনে করছেন। এ কারণে ভববদহ অঞ্চলে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিচালি (খড়) এনে বিক্রি করা হয়। এ বছর বাড়ি-ঘর থেকে পানি না সরায় ভবদহ বিল পাড়ের ৯০ শতাংশ গবাদি পশু বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন ভূক্তভোগীরা।

সরেজমিন ভবদহ বিল পাড়ের হাটগাছা, সুজাতপুর, ডহরমশিয়াহাটি, বাজে কুলটিয়াসহ কয়েকটি গ্রামে গেলে মানুষের জীবন-যাপনের করুণ চিত্র চোখে পড়ার পাশাপাশি গোয়াল শূন্য’র চিত্র চোখে পড়ে। এসময় কোন বাড়িতে ছাগলের দেখা মেলেনি। কিছু বাড়িতে গোয়াল ঘরে গরুর দেখা মিললেও তা পালনে বেগ পেতে হচ্ছে বলে ভুক্তভোগিরা জানা। বাড়ির উঠানে হাঁটু পানি থাকায় গোয়াল ঘর থেকে গরু কখনোই বের করা হয় না। এর ফলে দিনের পর দিন গোয়াল ঘরে রেখেই গরু লালন-পালন করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

যশোর-খুলনা জেলার ২৭ বিলের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র প্রবাহ পথ ভবদহ স্লুইচ গেট। কিন্তু ভবদহ স্লইচ গেট সংলগ্ন শ্রী, হরি ও টেকা নদী পলি মাটিতে ভরাট হওয়ায় পানি সরছে না। যে কারণে মণিরামপুর, কেশবপুর, অভয়নগর ও ফুলতলা উপজেলার প্রায় ৮০ গ্রামের কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্রতিবছর শীত মৌসুমে বাড়ি-ঘর থেকে পানি সরে গেলেও এবার আর সরছে না।
এসময় হাটগাছা গ্রামের মহেনতারা মন্ডল, রেনু মন্ডল, সুজাতপুর গ্রামের পূর্ণিমা মন্ডলসহ একাধিক নারী বলেন, তারা নিজেরাতো কষ্টে আছেন; তারওপর গরু নিয়ে রয়েছেন চরম বিপদে। প্রায় সব গরু বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাড়ির বাচ্চাদের দুধের জন্য গাভি রাখা হলেও তা লালন-পালনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এর সাথে গো-খাদ্যের রয়েছে চরম সংকট। বেশি দামে বিচালি কিনে গরু পালতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

কুলটিয়া গ্রামের শিক্ষক হরিচাঁদ মন্ডল বলেন, তাদের গ্রামে ছাগলতো নেই-ই; দুই/এক বাড়িতে গরু থাকলেও তা লালন-পালনে চরম কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে।
পানি সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক রনজিৎ বাওয়ালি বলেন, শুধু গো-খাদ্য নয়; বিলে ফসল না হওয়ায় এবং এ অঞ্চলের মানুষের কাজ না থাকায় ভবিষ্যতে মানুষেরও খাবারের সংকট দেখা দিবে বলে তিনি আশংকা করেন।
এদিকে ভবদহ এলাকায় বছরের পর ধানের আবাদ না হওয়ায় বিচালির (খড়) চরম সংকট রয়েছে। এ কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিচালি এনে এখানে চড়া দামে বিক্রি করা হয়। বাধ্য হয়ে কিনতে হয় এলাকার ভুক্তভোগিদের।

সপ্তাহের প্রতি রোব ও বুধবারে মশিয়াহাটি বহুমুখি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে বিচালির হাট বসে। বিচালি বিক্রি করতে আসা খেদাপাড়া গ্রামের বাবলুর রহমান বলেন, এখন সবখানে বিচালির সংকট। তারা রাজশাহী, নওগাঁ থেকে বিচালি কিনে এখানে বিক্রি করছেন। প্রতি কাউন ( ১৬ পনে এক কাউন) ৬ সাড়ে ছয় হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা বিক্রি করে থাকেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবুজার সিদ্দিকী বলেন, ভবদহ বিলপাড়ের গ্রামগুলোতে গবাদি পশু নেই বললেই চলে। যা ছিল গেলো বারের আকাশ বৃষ্টির পর বিক্রি করে দিয়েছেন স্থানীয়রা।

জাগোবাংলাদেশ/এমআই

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ