যশোর সদর উপজেলার রূপদিয়া ইউনিয়নের মুনসেবপুর গ্রামে মাদ্রাসা ভাঙার চেষ্টায় বাধা দিতে গিয়ে ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছেন আব্দুল রশিদ মোল্লা (৬৫) নামের এক অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য (ওয়ারেন্ট অফিসার)। প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার শ্বাসনালীর কাছাকাছি গুরুতর জখম হয়েছে। বর্তমানে তিনি যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।
আহত আব্দুল রশিদ মোল্লা ওই গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম মোতালেব মোল্লার ছেলে। ঘটনার বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে গ্রামের ‘দেবদাদাই মাদ্রাসা’ ভাঙার চেষ্টা চালায় স্থানীয় একটি পক্ষ। ওই মাদ্রাসার দেখভালের দায়িত্বে থাকা আব্দুল রশিদ মোল্লা এতে বাধা দিতে গেলে প্রতিপক্ষ ইব্রাহিম মোল্লা ও তার সহযোগীদের সাথে কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে ইব্রাহিম মোল্লা তার হাতে থাকা ধারালো হাসুয়া দিয়ে আব্দুল রশিদের গলায় কোপ মারেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রশিদের আঘাত অত্যন্ত গভীর এবং শ্বাসনালীর খুব কাছে হওয়ায় তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আহত আব্দুল রশিদের স্বজনদের দাবি, মালেক মোল্লার ছেলে ইব্রাহিম মোল্লা সরাসরি এই হামলায় অংশ নেন। হামলায় তার সাথে ইউসুফ, বুলবুল ও হাবিবসহ আরও বেশ কয়েকজন জড়িত ছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্তদের একটি অংশ জামায়াতের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। মূলত মাদ্রাসা দখল বা ভাঙার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
যশোর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে, তাই অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের আটকে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

