ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-১ (শার্শা) আসনে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমান। ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে তিনি ১,১৭,৩৭৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে পেয়েছেন ৯২,৯৯৫ ভোট।
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্যমতে, মাওলানা আজিজুর রহমান ২৪,৩৮২ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। এই আসনের ১০২টি কেন্দ্রে মোট ৬৬.৫২ শতাংশ ভোট সংগৃহীত হয়েছে।
অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী বক্তিয়ার রহমান (হাতপাখা) পেয়েছেন ১,৭৪১ ভোট এবং জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর কবির চঞ্চল (লাঙ্গল) পেয়েছেন ১,৩৬৭ ভোট।
বিএনপির পরাজয়ের নেপথ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল?
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলীয় সূত্রগুলো বলছে, বিএনপির এই পরাজয়ের প্রধান কারণ ছিল প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে চরম অভ্যন্তরীণ বিভক্তি। শুরুতে সাবেক সংসদ সদস্য মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও শেষ মুহূর্তে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটনকে চূড়ান্ত টিকিট দেওয়া হয়। এই আকস্মিক পরিবর্তনে তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ ক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে। এছাড়া প্রভাবশালী নেতা আবুল হাসান জহির ও খায়রুজ্জামান মধুর অনুসারীদের ভোটের মাঠে নিষ্ক্রিয়তা বিএনপির ভোটব্যাংকে বড় ধস নামিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জামায়াতের সুসংগঠিত প্রচার ও নারী ভোট
বিপরীতে, মাওলানা আজিজুর রহমান শুরু থেকেই জামায়াতের একক প্রার্থী হিসেবে সুসংগঠিত ও সুশৃঙ্খল প্রচারণা চালিয়েছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হলেও এবার তিনি সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে বড় জয় ছিনিয়ে নিলেন। বিশেষ করে দুর্গম এলাকা ও নারী ভোটারদের একটি বিশাল অংশ তার পক্ষে রায় দিয়েছে বলে আলোচনা রয়েছে।
আগামীর চ্যালেঞ্জ ও অঙ্গীকার
বিজয়োত্তর এক প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, “এই জয় জনগণের জয়। আমি একটি দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে কাজ করার অঙ্গীকার করছি।”
তবে স্থানীয়রা মনে করছেন, দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল কেন্দ্রিক এই আসনে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, বন্দর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনা এবং সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করাই হবে নতুন সংসদ সদস্যের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

