যশোর সদর উপজেলার রূপদিয়া ইউনিয়নের মুনসেবপুর গ্রামে একটি মাদ্রাসার জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক নারীসহ অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। শনিবার দুপুরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
য়শোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন:
* আব্দুল রশিদ মোল্লা: অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ও স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম মোতালেব মোল্লার ছেলে।
* ইব্রাহিম মোল্লা: জামায়াত সমর্থিত স্থানীয় বাসিন্দা ও রশিদের আপন চাচাতো ভাই।
* ইউসুফ মোল্লা: ইব্রাহিমের ভাই।
* জেসমিন: ইউসুফ মোল্লার স্ত্রী।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল রশিদ, ইব্রাহিম ও ইউসুফের আঘাত গুরুতর। বিশেষ করে রশিদের গলায় ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত রয়েছে।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করছে:
আব্দুল রশিদের পক্ষের দাবি:
রশিদ মোল্লা মাদ্রাসার দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন। তার অভিযোগ, শনিবার দুপুরে ইব্রাহিম ও তার লোকজন মাদ্রাসার স্থাপনা ভাঙার চেষ্টা করলে তিনি বাধা দেন। এ সময় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ইব্রাহিম তাকে ধারালো হাসুয়া দিয়ে গলায় কোপ মেরে হত্যার চেষ্টা করেন।
ল
ইব্রাহিমের স্ত্রী জানান, ১৯৮৭ সালে জমিটি মাদ্রাসার জন্য দান করা হলেও শর্ত ছিল—মাদ্রাসা না থাকলে জমি দাতা ফেরত পাবেন। মাদ্রাসাটি এক সময় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা জমির মালিকানা ফিরে পান। কিন্তু ২০২৩ সালে পুনরায় মাদ্রাসা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে বিরোধ শুরু হয়। তাদের দাবি, শনিবার দুপুরে নিজেদের জমিতে বেড়া দেওয়ার সময় রশিদ ও তার লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়, যাতে তাদের পক্ষের তিনজন জখম হন।
খবর পেয়ে যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফারুক আহমেদ জানান, ঘটনার পর থেকে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন এবং এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

