কারাগারে বন্দিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)। তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কারা প্রশাসনে নিরাপত্তা ও মানবাধিকার একে অপরের পরিপূরক।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে গাজীপুরের কাশিমপুরস্থ কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ‘৬৩তম ব্যাচ মহিলা কারারক্ষী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ’ কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
“কারাগারে বন্দিদের মানবিক আচরণ, ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা এবং বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করা কেবল আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থার প্রতিফলন। অপরাধীদের সংশোধন করে সুনাগরিক হিসেবে সমাজে ফিরিয়ে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।”
>
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কারাগার ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক কারা প্রশাসন গঠনে কারারক্ষীদের দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করতে হবে।
প্রশিক্ষণে কৃতিত্বের স্বীকৃতি
অনুষ্ঠানে ৬৩তম ব্যাচের নবীন নারী কারারক্ষীদের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন উপদেষ্টা। প্রশিক্ষণে বিশেষ কৃতিত্বের জন্য তিনি বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন:
* সর্ববিষয়ে শ্রেষ্ঠ ও পিটিতে প্রথম: মোছা. রায়হানা আক্তার সুবর্ণা।
* ড্রিল: লিজা খাতুন।
* আন আর্মড কম্ব্যাট: জুথি পারভীন।
* ফায়ারিং: মানসুরা।
নবীন নারী কারারক্ষীদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, প্রশিক্ষিত ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন কারারক্ষী ছাড়া আধুনিক কারা ব্যবস্থাপনা সম্ভব নয়। সততা ও দক্ষতার মাধ্যমে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে তারা একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

