মানুষ মরে গেলেও তার কর্ম বেঁচে থাকে—এই চিরন্তন সত্যকে ছাপিয়ে নিজেকে আক্ষরিক অর্থেই বিলিয়ে দিলেন জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের (জেসিএফ) প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আজাদুল কবির আরজু। তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, জানাজা শেষে রোববার সকালে তাঁর মরদেহ যশোর মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য দান করা হয়েছে।
রোববার সকাল ১০টায় যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. শরিফুল আলম খানের কাছে মরদেহটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর স্ত্রী মেরীনা আখতার, ভাই মোস্তফা কামাল ও কন্যা নিবেদিতা নার্গিস এই আবেগঘন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রসারে একজন সমাজসেবকের এমন আত্মদানকে বিরল সম্মান হিসেবে দেখছে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ।
দেহ হস্তান্তরের আগে সকাল থেকে যশোর শহরের মুজিব সড়কস্থ জেসিএফ প্রধান কার্যালয় চত্বর এক শোকাতুর জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
* শ্রদ্ধা নিবেদন: সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সর্বস্তরের মানুষ তাঁর মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। জেসিএফ-এর বিভিন্ন ইউনিটের পাশাপাশি শিশু নিলয় ফাউন্ডেশন, ব্র্যাক ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া ও বিএসআরএম-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ নাগরিকরা তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।
* জানাজা: সকাল সাড়ে ৯টায় জেসিএফ প্রাঙ্গণেই অনুষ্ঠিত হয় তাঁর তৃতীয় জানাজা। এতে ৫২টি জেলা থেকে আগত সংস্থার কর্মী এবং হাজারো ভক্ত ও গুণগ্রাহী অংশ নেন।
আগামীকাল সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বাদ আসর মুজিব সড়কস্থ জেসিএফ প্রধান কার্যালয় সংলগ্ন মাঠে মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনায় এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে সকলকে এই মাহফিলে উপস্থিত থাকার জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ৭২ বছর বয়সে গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুর ১টা ৫ মিনিটে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই বিশিষ্ট সমাজসেবক। জীবদ্দশায় দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক উন্নয়নে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে যে বিপ্লব তিনি শুরু করেছিলেন, মৃত্যুর পর দেহ দানের মাধ্যমে সেই সেবাকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন তিনি।

