সাগরদাঁড়িতে মহাকবি মধুসূদনের ২০২তম জন্মজয়ন্তী:

আরো পড়ুন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিকতার পথিকৃৎ, অমিত্রাক্ষর ছন্দের জাদুকর মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০২তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৮২৪ সালের এই দিনে যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার কপোতাক্ষ নদের তীরের সাগরদাঁড়ি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এই কালজয়ী সাহিত্যিক।
মহাকবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে তাঁর পৈতৃক ভিটায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী ‘মধুসূদন জন্ম উৎসব’। মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে সাগরদাঁড়িতে।

মধুসূদনের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বাণীতে তিনি মহাকবির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন:
> “মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের সাহিত্যকর্মে মানবিক চেতনা ও সৃজনশীলতার যে দীপ্ত প্রকাশ, তা আজও আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়। তাঁর অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তন বাংলা ভাষাকে বিশ্বদরবারে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে।”
>
ড. ইউনূস আরও উল্লেখ করেন, মধুসূদনের দেশপ্রেম ও মুক্তচিন্তা নতুন প্রজন্মকে সমৃদ্ধ সাহিত্যচর্চায় আগ্রহী করে তুলবে।
বাংলা সাহিত্যে মধুসূদনের অবদান
মধুসূদন দত্ত কেবল তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ দিয়েই অমর হননি, তিনি বাংলা সাহিত্যে আরও অনেক ‘প্রথম’-এর স্রষ্টা:
* অমিত্রাক্ষর ছন্দ: পয়ারের শেকল ভেঙে বাংলা কবিতায় গতির সঞ্চার।
* সনেট: বাংলা ভাষায় চতুর্দশপদী কবিতার প্রবর্তন।
* নাটক: আধুনিক বাংলা নাটকের ভিত্তি স্থাপন।
১৮৭৩ সালের ২৯ জুন কলকাতায় নিভে যায় এই কিংবদন্তির জীবনপ্রদীপ। তবে তাঁর সৃষ্টি আজও কোটি বাঙালির হৃদয়ে অম্লান। সাগরদাঁড়ির এই সপ্তাহব্যাপী উৎসবে যোগ দিচ্ছেন দেশ-বিদেশের কবি, সাহিত্যিক ও হাজারো মধু-ভক্ত।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ