যশোরে ব্যাংক কর্মকর্তাকে চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে ১২ লাখ টাকা লুটের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মণিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া শাখা ব্যবস্থাপক খলিলুর রহমানের কাছ থেকে অভিনব কায়দায় এই টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে একটি সঙ্ঘবদ্ধ চক্র। এই ঘটনায় যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী খলিলুর রহমান (২৮) মণিরামপুর উপজেলার বিপ্রকোনা গ্রামের আমজাদ আলীর ছেলে এবং বর্তমানে যশোর শহরের ষষ্টিতলাপাড়া এলাকায় বসবাস করেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৯ জানুয়ারি) তিনি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যাংক থেকে ১২ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। টাকাগুলো একটি ব্যাগে ভরে মোটরসাইকেলে করে তিনি যশোর শহরের দিকে আসছিলেন।
দুপুর আনুমানিক সোয়া একটার দিকে খলিলুর রহমান যশোর–রাজগঞ্জ সড়কের গোয়ালদা বাজার এলাকায় পৌঁছালে তার মোবাইল ফোনে একটি কল আসে। একটি অপরিচিত নম্বর (০১৯৪৮-৪৭৮১৩১) থেকে কল করে এক ব্যক্তি নিজেকে ব্যাংকের গ্রাহক পরিচয় দেয় এবং টাকা জমা দেওয়ার বিষয়ে জরুরি কথা বলতে চায়। খলিলুর রহমান তাকে চাঁচড়া কাঁচাবাজার এলাকায় অপেক্ষা করতে বলেন।
বেলা দেড়টার দিকে তিনি চাঁচড়া কাঁচাবাজার এলাকায় পৌঁছালে দুই থেকে তিনজন ব্যক্তি তার সঙ্গে সৌজন্যমূলক আলাপচারিতা শুরু করে এবং হাত মেলায়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এসময় দুর্বৃত্তরা সুকৌশলে তার ওপর চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে। এর কিছুক্ষণ পরেই তিনি অস্বাভাবিক বোধ করতে শুরু করেন এবং একপর্যায়ে প্রায় অচেতন হয়ে পড়েন। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা তার টাকার ব্যাগ থেকে ১২ লাখ টাকা নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
কিছুক্ষণ পর সম্বিত ফিরে পেলে তিনি দেখেন তার ব্যাগে রক্ষিত ১২ লাখ টাকার কোনো হদিস নেই। আশেপাশে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তিনি কাউকে শনাক্ত করতে পারেননি।
যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। যে নম্বরটি থেকে কল করা হয়েছিল সেটির অবস্থান শনাক্ত করার পাশাপাশি কাঁচাবাজার ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

