নিজস্ব প্রতিবেদক | যশোর
উপমহাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের প্রবাদপ্রতিম পুরুষ, তেভাগা আন্দোলনের কিংবদন্তি নেতা এবং বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কমরেড অমল সেনের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) যশোর-নড়াইল সীমান্ত সংলগ্ন বাকড়ি অঞ্চলে তাঁর স্মৃতিস্তম্ভে বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চা, যশোর জেলা শাখা।
নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চার নেতা কমরেড খবির শিকদারের নেতৃত্বে দলের নেতাকর্মীরা অমল সেনের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুমাইয়া শিকদার ইলা, সুরাইয়া শিকদার এশা, আরিফা আক্তার, রায়হান রশিদ আবির ও নয়ন আহমেদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
নেতৃবৃন্দের বক্তব্য:
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বক্তারা কমরেড অমল সেনের জীবন ও রাজনৈতিক দর্শনের ওপর আলোকপাত করেন। তারা বলেন:
* তত্ত্ব ও লড়াইয়ের সমন্বয়: অমল সেন কেবল তাত্ত্বিক মার্কসবাদী ছিলেন না, তিনি ছিলেন রাজপথের লড়াকু সৈনিক। তেভাগা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তিনি কৃষকের অধিকার আদায়ের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা ইতিহাসে বিরল।
* আদর্শিক সংকট ও উত্তরণ: বক্তারা বর্তমান বামপন্থী আন্দোলনের ‘সংসদবাদী মোহ’ ও ‘আদর্শিক বিচ্যুতি’র সমালোচনা করে বলেন, শোষিত মানুষের মুক্তির জন্য অমল সেনের প্রদর্শিত আপসহীন রাজনৈতিক লাইন আজ বেশি প্রাসঙ্গিক।
* শপথ: মেহনতি মানুষের অধিকার রক্ষা এবং সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে বেগবান করাই হবে এই মহান বিপ্লবীর প্রতি শ্রেষ্ঠ সম্মান।
পরিশেষে, উপস্থিত নেতৃবৃন্দ কমরেড অমল সেনের বৈপ্লবিক আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে একটি শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকারের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্ত করেন।

