আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে বড় ধরনের আইনি ধাক্কা খেল বিএনপি। দলটির মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবিরা সুলতানা মুন্নীর প্রার্থিতা স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রায় সাড় ৯ কোটি টাকা ঋণখেলাপের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি, ২০২৬) নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানিতে এই রায় ঘোষণা করা হয়।
যশোর-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি নেতা জহরুল ইসলাম সাবিরা সুলতানার মনোনয়নপত্র গ্রহণের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছিলেন। তার অভিযোগ ছিল, সাবিরা সুলতানা একজন চিহ্নিত ঋণখেলাপি এবং তিনি তথ্য গোপন করে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
তদন্ত ও শুনানি সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে সাবিরা সুলতানার স্বামী এবং ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির তৎকালীন সভাপতি নাজমুল ইসলাম নিখোঁজ ও নিহত হওয়ার পর তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। নাজমুল ইসলাম জীবদ্দশায় যে ব্যাংক ঋণ নিয়েছিলেন, সাবিরা সুলতানা ছিলেন সেই ঋণের ‘গ্যারান্টার’। দীর্ঘ সময় পার হলেও ওই ঋণ পরিশোধ না করায় আইনি মারপ্যাঁচে পড়েন তিনি।
নেত্রীর প্রার্থিতা স্থগিত হওয়ায় যশোর-২ আসনে ধানের শীষের প্রচারণায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সাবিরা সুলতানা বর্তমানে যশোর জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ এবং ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তার প্রার্থিতা চূড়ান্তভাবে বাতিল হলে আসনটিতে বিএনপির কৌশল কী হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন।
আপিল শুনানির এই সিদ্ধান্তের পর মুন্নীর পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ আছে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।

