, চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে যৌথবাহিনীর অভিযানের সময় সেনা হেফাজতে থাকা অবস্থায় শামসুজ্জামান ডাবলু নামে এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত ডাবলু জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় হাসপাতালপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত সাড় ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সেনাক্যাম্পের একটি দল জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি ওষুধের দোকানে অভিযান চালিয়ে ডাবলুকে আটক করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাশের একটি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাত ১২টার দিকে তার মৃত্যুর সংবাদ পায় পরিবার।
সেনাবাহিনীর বক্তব্য:
* অস্ত্র উদ্ধার: নিয়মিত অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে ডাবলুকে আটক করা হয়েছিল। অভিযানকালে তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
* মৃত্যুর কারণ: জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসকরা জানান, স্ট্রোকজনিত কারণে বা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের ভাই শরিফুল ইসলাম কাজলের অভিযোগ, তার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। নির্যাতনের অসহ্য যন্ত্রণাতেই ডাবলুর মৃত্যু হয়েছে।”
মঙ্গলবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল আমীনের উপস্থিতিতে মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করেছে পুলিশ। চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জীবননগর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

