আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণে চলছে চরম নাটকীয়তা। কারো প্রার্থিতা বৈধতা পাওয়ায় বইছে আনন্দের জোয়ার, আবার কারো ভাগ্য ঝুলে আছে কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত এই আসনের ভোটারদের তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের দিকে।
জহুরুল ইসলামের বিজয়: ফিরলেন নির্বাচনী মাঠে
১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে গত ১ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তা স্বতন্ত্র প্রার্থী ও চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহুরুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন। তবে হাল ছাড়েননি তিনি। নির্বাচন কমিশনে আপিল করে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের পর রোববার তাঁর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়। ফলে নির্বাচনী মাঠে ফিরতে তাঁর আর কোনো আইনি বাধা রইল না।
দ্বৈত নাগরিকত্বের ফাঁদে ডা. মোসলেহ উদ্দীন
বিপরীত চিত্র দেখা গেছে জামায়াত সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদের ক্ষেত্রে। শুরুতে ক্রেডিট কার্ডের ঋণ খেলাপির অভিযোগে তাঁর মনোনয়ন বাতিল হলেও ১ জানুয়ারি তিনি সেই ঋণ পরিশোধ করেন। কিন্তু নতুন করে যুক্ত হয়েছে ‘দ্বৈত নাগরিকত্ব’ ইস্যু। বিএনপি প্রার্থী সাবিরা সুলতানার তোলা এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইসি তাঁর প্রার্থিতা স্থগিত রেখেছে। দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রমাণ জমা দিতে তাঁকে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। সেদিনই নির্ধারিত হবে তিনি নির্বাচনে থাকতে পারবেন কি না।
চ্যালেঞ্জের মুখে সাবিরা সুলতানার প্রার্থিতাও
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবিরা সুলতানাও স্বস্তিতে নেই। হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগে তাঁর প্রার্থিতার বিরুদ্ধেও আপিল করা হয়েছে। এই আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৮ জানুয়ারি। ওই দিনই চূড়ান্ত হবে তিনি ভোটের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত থাকছেন কি না।
> এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ তারিখ:
> * ১৬ জানুয়ারি: ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদের দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত শুনানির শেষ দিন।
> * ১৮ জানুয়ারি: বিএনপি প্রার্থী সাবিরা সুলতানার তথ্য গোপন সংক্রান্ত আপিল শুনানি।
>
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণের ওপরই নির্ভর করছে যশোর-২ আসনের মূল ভোটের সমীকরণ। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী ময়দানে কারা টিকে থাকেন, তা দেখতে আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে ঝিকরগাছা ও চৌগাছার ভোটারদের।
যশোর-২ আসনে প্রার্থিতার লড়াই: কারো হাসি, কারো শঙ্কা

