মনিরামপুরে থামছে না আতঙ্ক: রানা প্রতাপ হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই কপালিয়া বাজারে বোমা হামলা

আরো পড়ুন

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার কপালিয়া বাজারে দুর্বৃত্তদের বোমা হামলায় নতুন করে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) রানা প্রতাপ নামে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্রবার রাতে জনাকীর্ণ এই বাজারে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল। এতে বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের কপালিয়া বাজারে বিকট শব্দে একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। হামলাকারীরা বাজারের ‘ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং’ শাখাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালায়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় পুরো বাজার এলাকা কেঁপে ওঠে। প্রাণভয়ে সাধারণ মানুষ ও পথচারীরা দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেন এবং মুহূর্তের মধ্যেই বাজারের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।
বিস্ফোরণে এজেন্ট ব্যাংকিং শাখাটির পরিচালক ফিজাজ উদ্দীনের দোকানের সামনের কাঁচের দরজা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বড় ধরনের কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। বিস্ফোরণের সময় দোকানের ভেতরে দুইজন কর্মচারী অবস্থান করলেও তারা অক্ষত রয়েছেন।
দোকান মালিক ফিজাজ উদ্দীন বর্তমানে ব্যক্তিগত কাজে এলাকার বাইরে রয়েছেন। মুঠোফোনে তিনি জানান, “এমন অতর্কিত হামলায় আমরা স্তম্ভিত। দোকানে সবসময় গ্রাহকদের আনাগোনা থাকে। এই ঘটনা আমাদের নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের হুমকি।” নিরাপত্তার খাতিরে ওই সময় কর্মরত দুই কর্মচারীর নাম তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
স্থানীয়দের মতে, ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় কপালিয়া বাজারে রানা প্রতাপকে গুলি করে হত্যার ঘটনার পর থেকেই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। ওই হত্যাকাণ্ডের রেশ না কাটতেই এই বোমা হামলা পরিকল্পিত বলে ধারণা করছেন সচেতন মহল। অনেকের মতে, এলাকায় অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করতেই অপরাধী চক্র একটি ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে।
রানা প্রতাপ হত্যাকাণ্ডের চার দিন পার হয়ে গেলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। খুনিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় এবং পুনরায় এই বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ