শ্বশুরের সম্পত্তি ও গাড়ির লোভে খুনি ভাড়া করেন জামাতা: যশোরে বিএনপি নেতা হত্যার রহস্য উন্মোচন

আরো পড়ুন

যশোর প্রতিনিধি:
যশোরের বিএনপি নেতা মো. আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে নিহতের আপন জামাতা বাসেদ আলী পরশ ও তার সহযোগী আমিনুল ইসলাম সাগরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও বিপুল সম্পত্তির লোভেই ভাড়াটে খুনি দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে যশোর কোতোয়ালি থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।পুলিশি তদন্ত ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে এই খুনের
* সম্পত্তি ও বিলাসিতা: ঘাতক জামাতা পরশের দীর্ঘদিনের নজর ছিল শ্বশুরের অঢেল সম্পত্তি এবং দামী বিলাসবহুল গাড়ির ওপর। এই সম্পদ কুক্ষিগত করতেই তিনি হত্যার ছক আঁকেন।
* ব্যক্তিগত আক্রোশ: সম্পত্তির লোভের পাশাপাশি স্ত্রীর প্রতি দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকেও শ্বশুরের ওপর প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলেন পরশ।
* পুরনো শত্রুতা: হত্যাকাণ্ডের অন্য পরিকল্পনাকারী আমিনুল ইসলাম সাগরের সঙ্গে নিহত আলমগীরের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আটককৃত দুইজন সরাসরি গুলিবর্ষণে অংশ নেননি। তারা মোটা অঙ্কের বিনিময়ে পেশাদার খুনি ভাড়া করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত শনিবার সন্ধ্যায় শংকরপুর এলাকায় আলমগীরের মোটরসাইকেল গতিরোধ করে মাথায় গুলি চালিয়ে মিশন সম্পন্ন করে ঘাতকরা।
পুলিশ সুপার জানান, কোতোয়ালি থানা ও ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে এই পরিকল্পনাকারীদের আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামাসহ আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
* রিমান্ড আবেদন: মামলার গভীরতা ও ভাড়াটে খুনিদের হদিস পেতে আসামিদের রিমান্ডে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
* অভিযান অব্যাহত: মূল শুটার ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশি অভিযান জোরালো করা হয়েছে।
যশোর শহরের আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে এবং ঘাতকদের বিচারের মুখোমুখি করতে পুলিশ বদ্ধপরিকর বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ