বিএনপির নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়: ভারপ্রাপ্ত থেকে দলের ‘চেয়ারম্যান’ হচ্ছেন তারেক রহমান

আরো পড়ুন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শিগগিরই পূর্ণকালীন ‘চেয়ারম্যান’ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে দলটির শীর্ষ পদটি শূন্য হয়। ১৯৮৪ সাল থেকে টানা চার দশকেরও বেশি সময় তিনি দলটির কাণ্ডারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর নেতৃত্বেই বিএনপি দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর থেকেই সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছিলেন। বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭-এর ‘গ’ ধারার (৩) উপধারা অনুযায়ী:
> চেয়ারপারসনের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং নতুন চেয়ারপারসন নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি ওই দায়িত্বে বহাল থাকবেন।
>
এই আইনি ও সাংগঠনিক বিধান অনুযায়ী, তারেক রহমানের পূর্ণকালীন চেয়ারম্যান হতে কোনো বাধা নেই বলে মনে করছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা।
আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সময়ের ব্যাপার
স্থায়ী কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির ‘চেয়ারম্যান’ হিসেবে ঘোষণা করা হতে পারে।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক পরিক্রমা
* শুরু: ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী থানা বিএনপির সাধারণ সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে হাতেখড়ি।
* পদোন্নতি: ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের পর ২০০২ সালে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন।
* প্রবাস জীবন: ২০০৭ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গ্রেপ্তার হন এবং ২০০৮ সালে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য সপরিবারে যুক্তরাজ্যে যান।
* ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্ব: ২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে যুক্তরাজ্য থেকেই তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন শুরু করেন।
* স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাসজীবন শেষে গত ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফিরে আসেন, যা দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতিশীলতা আনবে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ