যশোর-১ (শার্শা) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করে ভিন্ন ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার এক অভিনব চেষ্টা চালিয়েছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নান মিন্নু। তবে শেষ মুহূর্তে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ায় তার সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে জানা গেছে।স্থানীয় সূত্রমতে, গত ২৮ ডিসেম্বর শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল মান্নান মিন্নু হঠাৎ করেই রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছায় অবসরের ঘোষণা দেন, যা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়। তবে এই ঘোষণার নেপথ্যে ছিল ভিন্ন এক কৌশল। দলীয় কার্যক্রম ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তিনি সরাসরি আওয়ামী লীগের পরিচয় ব্যবহার না করে ‘জনতার দল’ নামক একটি সংগঠনের নামে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। সংশ্লিষ্টরা জানান, আব্দুল মান্নান মিন্নু ‘জনতার দল’-এর প্রার্থী হিসেবে তার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি যে ছদ্মবেশে নির্বাচনে লড়ছেন—এই সংবাদটি এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শেষ মুহূর্তে তিনি আর মনোনয়নপত্র জমা দেননি।
উপজেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসার ফজলে ওয়াহিদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, যশোর-১ আসন থেকে মোট ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন, যার মধ্যে আব্দুল মান্নান মিন্নুর নামও ছিল। তবে সোমবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ার পর দেখা যায়, তালিকায় ‘জনতার দল’-এর কোনো প্রার্থীর নাম নেই।
শার্শা আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী যারা
চূড়ান্তভাবে এই আসন থেকে ৭ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন:
* নুরুজ্জামান লিটন (বিএনপি)
* মফিকুল হাসান তৃপ্তি (স্বতন্ত্র)
* আবুল হাসান জহির (স্বতন্ত্র)
* জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল (জাতীয় পার্টি)
* ফসিয়ার রহমান (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ)
* মুহাম্মদ আজীজুর রহমান (জামায়াতে ইসলামী)
* শাহজাহান আলী (স্বতন্ত্র)
শার্শার রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনা নিয়ে এখন বইছে সমালোচনার ঝড়। অনেকেই বিষয়টিকে রাজনৈতিক কৌশল বললেও সাধারণ ভোটারদের মাঝে এটি এক কৌতূহলোদ্দীপক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।ঘ

