যশোরে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে এক স্কুলছাত্র ও এক গৃহবধূর করুণ মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকালে সদর উপজেলার মুড়লী এবং বাঘারপাড়া উপজেলার জামালপুর গ্রামে এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।:
নিহত নাসিমা বেগম (৪০) যশোর সদর উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের আব্দুল হান্নানের স্ত্রী। স্বজনরা জানান, অসুস্থ নাসিমা বেগম ও তার শাশুড়ি যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে ইজিবাইকযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে শহরের মুড়লী এলাকায় পৌঁছালে তার গায়ে থাকা চাদরটি অসাবধানতাবশত ইজিবাইকের চাকার সাথে পেঁচিয়ে যায়। এতে গলায় ফাঁস লেগে তিনি চলন্ত ইজিবাইক থেকে রাস্তায় ছিটকে পড়েন। মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক ডা. মিঠুন দেব তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিন সন্তানের জননী নাসিমার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আলমসাধু উল্টে স্কুলছাত্র নিহত:
অন্যদিকে, বাঘারপাড়া উপজেলার জামালপুর গ্রামে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র রাব্বী হোসেন (১৩)। সে ওই গ্রামের সোহেল হোসেন মোল্লার ছেলে। জানা গেছে, পরীক্ষা শেষ হওয়ায় ৫-৬ জন বন্ধু মিলে একটি আলমসাধুতে চড়ে গ্রামের রাস্তায় ঘুরছিল। চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে আলমসাধুটি উল্টে যায় এবং রাব্বী চাকার নিচে পিষ্ট হয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে যশোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি পৃথক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। সচেতন মহল মনে করছেন, অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন চলাচল এবং যান্ত্রিক যানবাহনে চলাচলের সময় সাধারণ নিরাপত্তার অভাব (যেমন ঢিলেঢালা পোশাক বা চাদর নিয়ে অসতর্কতা) এই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। যত্রতত্র ফিটনেসবিহীন আলমসাধু চলাচল বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

