ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যানসহ ৬ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বীমার টাকা আত্মসাৎ ও পাওনা পরিশোধ না করার অভিযোগে যশোর আদালতে তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবা শারমিন অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে আসামিদের প্রতি সমন জারির আদেশ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) যশোর সদর উপজেলার দেয়াপাড়ার শেখ সাইফুল ইসলাম এবং ঝিকরগাছার হাড়িয়া গ্রামের আসমা বেগম ও পরভীনা বেগম বাদী হয়ে এই মামলাগুলো দায়ের করেন।
মামলার অভিযুক্ত ৬ জন আসামি হলেন:
১. ফখরুল ইসলাম (চেয়ারম্যান, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স)
২. শহিদুল ইসলাম (ভারপ্রাপ্ত মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা)
৩. কামরুল হাসান (ব্যবস্থাপনা পরিচালক)
৪. কেএম শামসুদ্দীন (মুখ্য সিহাব কর্মকর্তা ও হিসাব কর্মকর্তা)
৫. আব্দুর রাহিম ভূঁইয়া (সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক)
৬. আব্দুল মান্নান (যশোরের ডিভিশনাল ইনচার্জ)
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তিনটি মামলার ক্ষেত্রেই আসামিরা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বীমা গ্রাহক ও প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের পাওনা টাকা পরিশোধ না করে প্রতারণা করেছেন।
* কর্মচারীদের পাওনা: বাদী শেখ সাইফুল ইসলামসহ আরও তিনজন (টিপু সুলতান, আমিনুর রশিদ খান ও খান মিরাজ আলী) কোম্পানির যশোর শাখায় চাকরি করতেন। চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি আসামিরা তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠালেও অবসরকালীন ভাতা ও ইন্স্যুরেন্সের প্রাপ্য অর্থ নানা অজুহাতে আটকে রাখেন।
* বীমা গ্রাহকের পাওনা (আসমা বেগম): ঝিকরগাছার আসমা বেগম বার্ষিক ৫৫,১৫০/- টাকা কিস্তিতে ১০ বছর মেয়াদি বীমা করেছিলেন। মেয়াদ শেষে তার পাওনা ৪,৪১,২০০/- টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি।
* বীমা গ্রাহকের পাওনা (পরভীনা বেগম): একই গ্রামের পরভীনা বেগম বার্ষিক ১১,১৪৪/- টাকা কিস্তিতে ১০ বছর মেয়াদি বীমা করেন। বীমার মেয়াদ পূর্ণ হলেও তার পাওনা ২,৪২,৮৮০/- টাকা পরিশোধ করা হয়নি।
পাওনা টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে ভুক্তভোগী তিন ব্যক্তি আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারির নির্দেশ দিয়েছেন
বীমার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে যশোরে ৩ মামলা

