মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ভারত প্রত্যর্পণ করবে বলে দাবি করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, যা নিয়ে সরকারের ভেতরে ও বাইরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। প্রেস সচিব দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, তিনি জেনে বুঝেই এমন তথ্য দিয়েছেন এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টা যাই বলুন না কেন, কামালকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করা হবে।
সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জানান যে, ভারত পলাতক আসাদুজ্জামান খান কামালকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেবে। তার এই বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানান, কামালকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রেস সচিবের স্ট্যাটাস সংক্রান্ত কোনো লিখিত তথ্য তার কাছে নেই।
তবে, পররাষ্ট্র উপদেষ্টার মন্তব্য সত্ত্বেও শফিকুল আলম তার অবস্থানে অনড় থেকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, তিনি জেনে বুঝেই এই তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি আরও বলেন, গত ১৫ বছরে গুম-খুনের মতো ভয়ংকর অপরাধের হোতা ছিলেন কামাল।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কামালকে প্রত্যর্পণ করা খুব ভালোভাবেই সম্ভব।
* প্রত্যর্পণ চুক্তি: বাংলাদেশ ও ভারত ২০১৩ সালে একটি প্রত্যর্পণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করে, যার মাধ্যমে উভয় দেশ পলাতক আসামিদের বিনিময় করতে পারে।
* জটিলতা: যদিও চুক্তি রয়েছে, তবে এর বিভিন্ন ধারা বিষয়টিকে একেবারেই সরল রাখেনি।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান মনে করেন, আসাদুজ্জামান খান কামালের প্রত্যর্পণের যথেষ্ট সুযোগ আছে। তবে তিনি একইসঙ্গে মন্তব্য করেন যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা তুলনামূলকভাবে কঠিন হবে।
প্রেস সচিবের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি শুধুই একটি ব্যক্তিগত মন্তব্য, নাকি এর আড়ালে সরকারি পর্যায়ে কোনো বোঝাপড়া চলছে—এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে।
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের প্রত্যর্পণ নিয়ে বিতর্ক: প্রেস সচিবের বক্তব্যে তোলপাড়

