দেশমাতার সুস্থতা কামনায় যশোর ঈদগাহ ময়দানে জনতার ঢল: ‘আমিন’ ধ্বনিতে মুখরিত আকাশ

আরো পড়ুন

যশোর প্রতিনিধি:
গুরুতর অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পরিপূর্ণ সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনায় অশ্রুসিক্ত নয়নে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানালো যশোরবাসী। গতকাল রোববার বাদ আসর যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি প্রার্থনার এক মহাসমাবেশে রূপ নেয়।
বিকেল ৪টার নির্ধারিত সময়ের আগেই সাড়ে ৩টার পর থেকে বিভিন্ন পেশা ও স্তরের মুসল্লিরা ঈদগাহ ময়দানে আসতে শুরু করেন। আসরের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয় জেলা ইমাম পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি মুফতি আব্দুল মান্নানের ইমামতিতে।
প্রার্থনায় আবেগঘন পরিবেশ
মোনাজাত চলাকালীন হাজারো কণ্ঠে উচ্চারিত “আমিন… আমিন…” ধ্বনিতে গোটা ঈদগাহ ময়দান মুখরিত হয়ে ওঠে, যা এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে। এই দোয়া-মুনাজাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী সংগঠনসহ ওলামা-মাশায়েখদেরও ব্যাপক উপস্থিতি ছিল।
অনিন্দ্য ইসলামের আহ্বান: ‘খালেদা জিয়া জাতির অভিভাবক’
মোনাজাতের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) ও যশোর-৩ (সদর) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আবেগঘন কণ্ঠে বলেন—
> “বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের বাকস্বাধীনতার জন্য দীর্ঘ লড়াই সংগ্রাম করেছেন। তাঁর আপোষহীন নেতৃত্বের কারণেই তিনি দলের গণ্ডি পেরিয়ে জাতির অভিভাবকে পরিণত হয়েছেন।”
>
তিনি আরও বলেন, যশোরসহ সারাদেশ আজ দেশমাতার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছে।
যশোরের উন্নয়নে খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ
যশোরের উন্নয়নে বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে অমিত বলেন, যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রূপান্তর, উপজেলাগুলোতে ৫০ শয্যার হাসপাতাল, যশোর মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ, বিভিন্ন কলেজে ভবন নির্মাণ ও অনার্স কোর্স চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো তাঁর হাতের ছোঁয়া।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণের দোয়া ও প্রার্থনার বরকতে আল্লাহ তাআলা খুব শিগগিরই দেশমাতাকে সুস্থ করে জনগণের মাঝে ফিরিয়ে দেবেন।
পরে মুনাজাত পরিচালনা করেন জেলা ইমাম পরিষদের সভাপতি মাওলানা আনোয়ারুল করিম যশোরী।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও পেশাজীবীরা
মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, সাবেক সহসভাপতি গোলাম রেজা দুলুসহ জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক গোলাম রসুল, শহর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর ইসমাইল হোসেন, জাতীয় পার্টি, জাগপা, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা।
এছাড়াও ছিলেন যশোর সরকারি এমএম কলেজের শিক্ষক প্রফেসর আব্দুল কাদের, ড্যাব-এর সাবেক সভাপতি আবু আহসান লাল্টু, যশোর চেম্বারের সভাপতি মিজানুর রহমান খান, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন ও সম্পাদক এস.এম. তৌহিদুর রহমান, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর, কলেজ শিক্ষক সমিতি, জেলা সাংস্কৃতিক জোট, ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ