যশোর: আমিনিয়া মাদ্রাসায় গণপিটুনির শিকার ৯ মামলার আসামি, উদ্ধার অস্ত্র-গুলি

আরো পড়ুন

শহরের খালধার রোডের আমিনিয়া আলিয়া মাদ্রাসার ভেতরে বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাতে গণপিটুনির শিকার হয়েছেন কোরবান আলী নামে এক যুবক। স্থানীয়দের দাবি, গণপিটুনির সময় তার কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
আহত কোরবান আলী শহরতলীর শেখাটি এলাকার মুজিবর রহমানের ছেলে এবং তার বিরুদ্ধে পাঁচটি মাদক মামলাসহ মোট নয়টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানায়, রাত পৌনে নয়টার দিকে মাদ্রাসার মধ্যে স্থানীয় লোকজন অস্ত্রসহ এক যুবককে আটক করে গণপিটুনি দিচ্ছে বলে ৯৯৯-এর মাধ্যমে সংবাদ আসে। কোতোয়ালি থানার এসআই মোফাজ্জল হোসেন দ্রুত ঘটনাস্থলে যান।
পুলিশের বক্তব্য:
এসআই মোফাজ্জল হোসেন কোরবান আলীকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। তিনি নিশ্চিত করেন, ঘটনাস্থল থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
ওসি’র মন্তব্য:
কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল হাসনাত জানান, ৯৯৯ কল পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান এবং স্থানীয়রা অস্ত্রসহ কোরবান আলীকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং পরে জানা যায়, কোরবান আলীর বিরুদ্ধে ৯টি মামলা রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক জুবায়ের আহমেদ জানান, গণপিটুনিতে কোরবান আলীর দুই পায়ে মারাত্মক আঘাত লেগেছে এবং তার বাম পা ভেঙে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গণপিটুনির শিকার কোরবান আলী অবশ্য ভিন্ন দাবি করেছেন। তিনি জানান, তিনি ভাঙড়ি মালের ব্যবসা করেন এবং শেখহাটি হাইকোর্ট মোড়ে তার দোকান আছে। পার্শ্ববর্তী দোকানদার তুহিনের সাথে তার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তুহিনের সহযোগী রিয়াদ তাকে কৌশলে মাদ্রাসার ভেতরে ডেকে নিয়ে যায়। গেট দিয়ে ঢুকতেই ৮ থেকে ১০ জন লোক লাঠি ও লোহার রড দিয়ে তাকে বেধড়ক মারপিট করে।
কোরবান আলীর দাবি, অস্ত্র-গুলি কোথা থেকে এলো, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের গণপিটুনি এবং পুলিশের উদ্ধার করা অস্ত্র-গুলির রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চালাচ্ছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ