নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরকে বিলুপ্ত করে অন্য অধিদপ্তরের সঙ্গে একীভূত করার প্রস্তাবের প্রতিবাদে যশোরে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার (২৪ নভেম্বর ২০২৫) দুপুর ২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএনএ) যশোর জেলা শাখা এই কর্মসূচি পালন করে।
সংগঠনের সভাপতি শাহিদা খাতুনের নেতৃত্বে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, স্বতন্ত্র নার্সিং প্রশাসন নার্সিং পেশার অগ্রগতির মূল স্তম্ভ। সরকারের একীভূতকরণের উদ্যোগ নার্সদের মর্যাদা, দক্ষতা ও পেশাগত উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে বলে তারা সতর্ক করেন। পাশাপাশি নার্সদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
কর্মসূচিতে সংগঠনটি তাদের আট দফা দাবি তুলে ধরে—
১. নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরকে অন্য কোনো অধিদপ্তরের সঙ্গে একীভূত করার উদ্যোগ বাতিল এবং জাতীয় নার্সিং কমিশন গঠন।
২. অধিদপ্তর প্রণীত নিয়োগবিধি, অর্গানোগ্রাম, স্ট্যান্ডার্ড সেট-আপ ও ক্যারিয়ার পাথ অনুমোদন ও বাস্তবায়ন।
৩. নার্সদের উচ্চতর পদে (৯ম থেকে ৪র্থ গ্রেড) ভূতাপেক্ষ পদ সৃজন ও সুপারনিউমেরারি পদোন্নতি।
৪. নার্সিং সুপারভাইজার ও নার্সিং ইন্সট্রাক্টর পদকে ৯ম গ্রেডে উন্নীতকরণ।
৫. ডিপ্লোমা নার্স-মিডওয়াইফদের সনদকে স্নাতক (পাশ) সমমান প্রদান এবং গ্রাজুয়েট নার্স-মিডওয়াইফদের জন্য প্রফেশনাল বিসিএস চালু।
৬. বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা ও নার্সিং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুনির্দিষ্ট নিয়োগবিধি ও বেতন কাঠামো প্রণয়ন এবং ভুয়া নিবন্ধনবিহীন নার্স-মিডওয়াইফদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা।
৭. নার্স-মিডওয়াইফদের ঝুঁকি ভাতা প্রদান এবং পূর্বের স্বৈরাচারী সরকারের চাপিয়ে দেওয়া নার্সিং ইউনিফর্ম পরিবর্তন।
৮. শয্যা, রোগী ও চিকিৎসক অনুপাতে প্রয়োজনীয় নার্স-মিডওয়াইফের পদ সৃজন ও নিয়োগ।
মানববন্ধন শেষে নার্সরা জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।

