বাংলাদেশে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের

আরো পড়ুন

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক গবেষণায় গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় একটি গোপন ভূ-চ্যুতি বা ফল্ট শনাক্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই ফল্ট থেকে শক্তি হঠাৎ মুক্ত হলে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ৯ মাত্রার বিধ্বংসী ভূমিকম্প ঘটতে পারে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী জানান, গত দুই দিনে দেশে চারবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তাঁর আশঙ্কা, আগামী এক সপ্তাহে আরও প্রায় ২০ বার ভূকম্পন হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, কোনো ভূমিকম্পের মাত্রা যদি ৫.৭-এর বেশি হয়, তাহলে স্বল্প সময়ের মধ্যে বড় ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। নরসিংদীকে সম্ভাব্য উৎপত্তিস্থল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশ ভারত, ইউরেশিয়া ও বার্মা—এই তিন টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। ভূমিকম্প গবেষণা কেন্দ্রের রুবাইয়াত কবির জানান, প্লেটগুলো বর্তমানে আটকে আছে এবং ধীরে ধীরে খুলছে। ভারতীয় প্লেট ইউরেশীয় প্লেটের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটালে বড় ধরনের কম্পন অনুভূত হতে পারে।

২০১৬ সালের গবেষণায় গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় ‘মেগাথার্স্ট ফল্ট’ শনাক্ত হয়, যা পললস্তরের নিচে বহু মাইল জুড়ে বিস্তৃত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত এ সংযোগস্থলে গত ৮০০ থেকে ১,০০০ বছর জমে থাকা শক্তি এখনো মুক্ত হয়নি। ফলে এটি ‘রিং অফ ফায়ার’-এর মতোই ঝুঁকিপূর্ণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগ ঘোড়াশালের ফাটল থেকে সংগ্রহ করা মাটি পরীক্ষা করছে। সাবেক অধ্যাপক আ স ম ওবায়দুল্লাহ জানান, পরীক্ষার মাধ্যমে ভূমিকম্পের গভীরতা ও প্রকৃতি নির্ণয় করা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করিয়ে দেন, ১৭৬২ সালে টেকনাফ–মিয়ানমার ফল্ট লাইনে ৮.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে সেন্টমার্টিন দ্বীপ ৩ মিটার উঁচু হয়ে যায়। বর্তমানে সেখানে নতুন শক্তি সঞ্চিত হচ্ছে। প্লেট চলাচল অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী ভূমিকম্পের জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ