: যশোরের পোস্টঅফিস পাড়ার একটি ফ্ল্যাটে চুরির ঘটনায় গৃহকর্মী এবং তার স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। ফ্ল্যাট খালি থাকার সুযোগে গৃহকর্মী সোনা ও আইপ্যাড চুরি করেছিলেন বলে অভিযোগ। চুরির বিষয়টি সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ধরা পড়ার পর ওই গৃহকর্মী তা স্বীকারও করেন এবং মালামাল ফেরত দেওয়ার মুচলেকা দিয়েও এখন নানা টালবাহানা ও হুমকি দিচ্ছেন।
বাধ্য হয়ে গৃহকর্তা মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে গত সোমবার (১৩ অক্টোবর) আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অভিযুক্তরা হলেন—গৃহকর্মী রাজিয়া পারভীন নীলা (চাঁচড়া বেড়বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা) ও তার স্বামী জসিম উদ্দিন। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শান্তনু কুমার মন্ডল অভিযোগটি আমলে নিয়ে আসামিদের প্রতি সমন জারির আদেশ দিয়েছেন।
মামলায় বাদী মনিরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, দেড় বছর ধরে নীলা তার বাসায় কাজ করতেন। গত ১ সেপ্টেম্বর তার পরিবারের লোকজন বাড়িতে অনুপস্থিত ছিলেন এবং বাড়ির এক সেট চাবি নীলার কাছে ছিল। ওই দিন রাত ১১টায় বাসায় ফিরে তিনি দেখেন ঘরের ওয়ারড্রোব ও আলমারি খোলা। সেখান থেকে সোনার চুড়ি, কানের দুল, চেইনসহ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের গহনা ও একটি আইপ্যাড খোয়া গেছে।
পরে ঘরের একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ধরা পড়ে যে নীলা ঘরে ঢুকে কৌশলে চুরি করে নিয়ে যান। ২ সেপ্টেম্বর নীলা কাজ করতে এলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি প্রথমে অস্বীকার করেন। তবে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখানোর পর তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। এরপর স্থানীয়দের উপস্থিতিতে নীলার স্বামী জসিম উদ্দিনও আসেন। সে সময় তারা লিখিতভাবে স্ট্যাম্পে অঙ্গীকার করেন যে, এক মাসের মধ্যে খোয়া যাওয়া মালামালের ক্ষতিপূরণ বাবদ দুই লাখ টাকা ফেরত দেবেন।
কিন্তু এক মাস পার হলেও তারা টাকা ফেরত দেননি। এমনকি তারা উল্টো মনিরুল ইসলামকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন এবং মিথ্যা মামলা করার ভয় দেখাচ্ছেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী রুহিন বালুজ বলেন, “নীলা টাকা ফেরত না দেওয়ার উদ্দেশ্যে থানাসহ বিভিন্ন জায়গায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে বেড়াচ্ছেন। আসামিরা মনিরুলকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন। আমরা আদালতকে বিষয়টি অবহিত করেছি এবং বিচারক বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন।”
যশোরে ফ্ল্যাটে গৃহকর্মীর চুরি: সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ার পরও গহনা ও আইপ্যাড ফেরত না দেওয়ায় দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা

