শতাংশ হারে বাড়িভাড়াসহ ৩ দফা দাবিতে বেসরকারি শিক্ষকদের কর্মবিরতি, ঝিকরগাছার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংহতি

আরো পড়ুন

ঝিকরগাছা (যশোর): শতাংশ হারে বাড়িভাড়াসহ তিন দফা দাবিতে দেশব্যাপী চলমান বেসরকারি শিক্ষক আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে কর্মবিরতি পালন করছে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার সকল শিক্ষক সংগঠন। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঝিকরগাছা উপজেলার কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাগুলোতে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
সরেজমিনে ঝিকরগাছা উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মবিরতি পালন করতে দেখা যায়। এই আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে একাত্মতা ঘোষণা করেছে ঝিকরগাছার সকল কলেজ, ঝিকরগাছা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি এবং ঝিকরগাছা মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি।
এ প্রসঙ্গে মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও বি এম হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি শিক্ষকরা নানাভাবে অবহেলিত ও বঞ্চিত। একজন রিকশাচালকের চেয়েও এমএ পাস একজন শিক্ষককে কম বেতন দেওয়া হয়। নানা বঞ্চনার কারণেই শিক্ষক সমাজ আজ ফুঁসে উঠেছে।”
চলমান আন্দোলনে শিক্ষকদের ওপর পুলিশের নির্বিচারে অত্যাচার-নির্যাতনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঝিকরগাছা উপজেলার ৫২টি মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছে। তিনি আরও বলেন, “কেন্দ্রের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমরা কর্মবিরতি পালন করছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কোনো আপোস করব না।”
এছাড়া চলমান আন্দোলন ও কেন্দ্রীয় কর্মসূচির প্রতি সংহতি প্রকাশ করে একাত্মতা ঘোষণা করেছে ঝিকরগাছা উপজেলা মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি। ঝিকরগাছা উপজেলা মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও চলমান আন্দোলনের ঝিকরগাছা শাখার সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দ্বীন ইসলাম জানান, উপজেলার ২৬টি মাদ্রাসা এই আন্দোলনের সঙ্গে একমত পোষণ করে কর্মবিরতি পালন করছে।
ঝিকরগাছা দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এবং চলমান আন্দোলনের ঝিকরগাছা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক বলেন, “কেন্দ্র ঘোষিত চলমান আন্দোলনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা কর্মবিরতি পালন করছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে আছি এবং থাকব।” এদিকে, এই আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করে সম্মিলনী মহিলা ডিগ্রি কলেজসহ ঝিকরগাছা উপজেলার বিভিন্ন কলেজও কর্মবিরতি পালন করছে।
উল্লেখ্য, দেশব্যাপী এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের তুলনায় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী বা একজন ড্রাইভার যে বেতন-ভাতা পান, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো কোনো ক্ষেত্রে একজন গ্র্যাজুয়েট বা মাস্টার্স ডিগ্রিধারী শিক্ষক সেই সুবিধা থেকেও বঞ্চিত। এই অধিকার বঞ্চিত শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া, ১৫০০ টাকা মেডিকেল ভাতা এবং কর্মচারীদের ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতার দাবিতে তারা আন্দোলন করছেন। এরই অংশ হিসেবে গত ১২ অক্টোবর ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দেশব্যাপী বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অসংখ্য শিক্ষক-কর্মচারী সমবেত হন। সমাবেশ থেকে কেন্দ্রীয় শিক্ষক নেতৃবৃন্দ দাবি আদায়ের আল্টিমেটাম ঘোষণা করেন। তবে শিক্ষকদের অধিকার আদায়ের চলমান আন্দোলন নস্যাৎ করার জন্য পুলিশ শিক্ষকদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। এই ঘটনার প্রতিবাদে ঝিকরগাছা উপজেলার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক সংগঠনগুলো তীব্র নিন্দা জানিয়ে কর্মবিরতি পালন করছে।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ