যশোরে ইজিবাইক চুরি নিয়ে বিরোধের জের ধরে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে চঞ্চল মাহমুদ (২৪) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে। এই হামলায় নিহতের বাবা, মা ও ছোট ভাইসহ আরও তিনজন গুরুতর জখম হয়েছেন।বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে যশোর সদর উপজেলার ডাকাতিয়া গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত চঞ্চল মাহমুদ ওই গ্রামের মধু গাজীর ছেলে। আহতরা হলেন, চঞ্চলের বাবা মধু গাজী, মা হাসিনা বেগম ও ছোট ভাই তুহিন।
যেভাবে ঘটনাটি ঘটে
স্থানীয় ও থানা পুলিশ সূত্র জানায়, সম্প্রতি ডাকাতিয়া গ্রামের চঞ্চল মাহমুদের একটি ইজিবাইক চুরি হয়। এই ঘটনায় চঞ্চল ও স্থানীয়দের সন্দেহ ছিল এলাকার আলোচিত চোর সিন্ডিকেট প্রধান রবিউল ইসলাম ও তার চক্রের ওপর। তারা রবিউলকে ইজিবাইকটি ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালে রবিউল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
এই বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার সকাল দশটার দিকে রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা মধু গাজীর বাড়িতে হামলা চালায়। প্রথমে তারা চঞ্চল মাহমুদকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। চঞ্চল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন তার বাবা মধু গাজী, মা হাসিনা বেগম ও ছোট ভাই তুহিন। হামলাকারীরা তাদেরও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসলে হামলাকারী চক্র ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চঞ্চল মাহমুদকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর জখম মধু গাজীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
তিন হামলাকারী গ্রেফতার
এই নৃশংস হামলা ও হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে যশোর কোতোয়ালি থানা, জেলা গোয়েন্দা শাখাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক দল ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল এলাকায় খোঁজখবর নেয়। পরবর্তীতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে চোর সিন্ডিকেট প্রধান রবিউল ইসলাম, তার সহযোগী বিল্লাল হোসেন ও মুন্নাকে আটক করে।
যশোর কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর অপারেশন মোমিন জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ায় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে।

