যশোরের নাভারণ সরকারি খাদ্য গুদামে ৩৫ মেট্রিক টন চাল ঘাটতি এবং বিপুল পরিমাণ নিম্নমানের, খাওয়ার অযোগ্য খাদ্যশস্য মজুদের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গুদাম রক্ষকের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ‘ম্যানেজ করে’ এসব অপকর্ম চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
৩৫ মেট্রিক টন চাল লোপাট
নাভারণ সরকারি খাদ্য গুদামের ওসিএলএসডি (অফিসার ইনচার্জ, লোকাল সাপ্লাই ডিপো) জামশেদ ইকবালুর রহমানের বিরুদ্ধে গুদামের বিভিন্ন খামালে (শস্য স্তূপ) ১ থেকে ৩ টন করে চাল কম রেখে গোপনে তা বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে গুদামটিতে কাগজে-কলমে মজুদের তুলনায় ৩৫ মেট্রিক টন চাল ঘাটতি রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গুদামের রক্ষক প্রত্যেকটি খামালে পরিকল্পিতভাবে চাল কম রেখে এই বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল আত্মসাৎ করেছেন।
বিপুল পরিমাণ নিম্নমানের খাদ্যশস্য মজুদ
চাল ঘাটতির পাশাপাশি গুদামটিতে ৪, ৫ ও ৬ নম্বর খামালে ডেলিভারী ও খাওয়ার অনুপযোগী বিপুল পরিমাণ নিম্নমানের চাল মজুদ রয়েছে।
* ৬ নম্বর গুদামে: লালচে বর্ণের পুরোনো চাল, যা কয়েক বছর আগের।
* ৪ ও ৫ নম্বর গুদামে: খামালের মাঝখানে বিপুল পরিমাণ নিম্নমানের, খাওয়ার সম্পূর্ণ অনুপযোগী চালের মজুদ রয়েছে।
* পুরোনো ও নিম্নমানের চালের কারণে গুদামটিতে খাদ্যশস্যের গুণগত মান নিয়ে চরম অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ওসিএলএসডি বিধিবহির্ভূতভাবে দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে বিভিন্ন ডিও-এর চাল কম দামে কিনে গুদাম বোঝাই করেছেন।
পূর্বের অভিযোগ ও কর্তৃপক্ষের ভূমিকা
জানা যায়, এর আগেও নাভারণ খাদ্য গুদামে বড় ধরনের চাল ঘাটতির ঘটনা ঘটেছিল:
* ২০২৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর: খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব মোঃ আবুল আমিন গুদাম পরিদর্শনে এসে খাতা-কলমের জমা ও মজুদের মধ্যে ব্যাপক অসংগতি দেখতে পান।
* ওই সময় গুদামে প্রায় সাড়ে ৭০০ মেট্রিক টন চাল ঘাটতি ছিল। উপ সচিব ডিসি ফুডকে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
* অভিযোগ রয়েছে, গুদাম রক্ষক জামশেদ ইকবালুর রহমান সে সময় মোটা অঙ্কের উৎকোচ দিয়ে ডিসি ফুডকে ‘ম্যানেজ’ করে ফেলেন। এরপর বাজার থেকে চাল কিনে ঘাটতি পূরণ করে পরিস্থিতি সামাল দেন।
* এছাড়া, মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে শেখ হাসিনার নাম সম্বলিত বস্তাসহ চাল বিলি বিতরণ করার ঘটনায় শার্শা এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা দিয়েছিল। সেই সময়ও প্রত্যাহার ঠেকাতে ওসিএলএসডি খুলনার তৎকালীন আরসিফুডকে আট লাখ টাকা উৎকোচ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাম্প্রতিক এই ৩৫ মেট্রিক টন চাল ঘাটতি ও নিম্নমানের খাদ্যশস্য মজুদের ঘটনা আবারও গুদাম রক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগকে জোরালো করেছে।

